Saturday, February 20, 2021

মরু অঞ্চলের প্রতিরোধের উপায়

মরু অঞ্চলের প্রতিরোধের উপায়:
১.ভূমিক্ষয় রোধ করা:
মরু প্রান্তীয় এলাকায় মাটি ক্ষয় রোধ করতে ঢালু এলাকায় সমোন্নতিরেখা চাষ, বায়ুরোধক দেয়াল তৈরি করে বায়ুপ্রবাহ আটকানো, গাছপালা ও মুথা জাতীয় তৃণ লাগিয়ে বন বা তৃণভূমির আচ্ছাদন তৈরি করা, বাধ দিয়ে ভূপৃষ্ঠ প্রবাহ আটকানো প্রয়োজন।

২. বালিয়াড়ির প্রসার রোধ করা:
মরু লাগোয়া এলাকায় বালিয়াড়ির অগ্রগমন আটকাতে বালিয়াড়ির ওপর খরা প্রতিরোধ গাছ, গুল্ম ঝোপ, ঘাস লাগানো, চারপাশে শক্ত বেড়া দেওয়া, খনিজ তেলের গাদ ছড়ানো হয়। ভারতের Central arid zone research institute (CAZRI) কৃষি জমির পাশে বায়ুর গতির মুখে আড়াআড়িভাবে উদ্ভিদের প্রাচীর তৈরি করে বায়ুছেদ ঘটিয়ে কৃষিজমিকে বায়ু সঞ্চয় থেকে রক্ষা করছে। সাহারার দক্ষিণ প্রান্তে ৭০০০ কিমি দীর্ঘ এবং ১৫ কিমি গাছের প্রাচীর তৈরি করা হয়েছে।এটি গ্রেট গ্রীন ওয়াল (GGW) নামে পরিচিত।

৩. পশুচারণ ভূমির উন্নতি: 
জমির পোষণ ক্ষমতা অনুসারে নির্দিষ্ট সংখ্যক উট, ভেড়া, ছাগল পালন করা প্রয়োজন যাতে পদপিষ্ট হয়ে তৃণ নষ্ট না হয় । রাজস্থানে কিছু পঞ্চায়েত এরূপ নজরদারি চালু করেছে ।

৪.বৈজ্ঞানিক জল সেচ ও কৃষিকাজ:
উপযুক্ত মাত্রায় জলসেচ করতে হবে বা গর্ত খুঁড়ে, চেক ড্যাম তৈরি করে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করতে হবে। খরা প্রতিরোধ শষ্য যেমন মিলেট চাষ করা প্রয়োজন। মাটির আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত এর ভিত্তিতে চাষাবাদ করতে হবে।



মরু অঞ্চল প্রসারণ এর কারণ ও ফলাফল

মরুভূমির প্রসারণ:
উষ্ণ মরুভূমির প্রান্তভাগে উৎপাদনশীল ভূমি ক্রমশ ঊষর মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে মরুকরণ বলে। মরুভূমির ক্ষেত্রমান বৃদ্ধিকে মরু প্রসারণ বলে।পৃথিবীর ৩৫% শতাংশ জমি দ্বারা আক্রান্ত। ফলে ৮৫ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পৃথিবীতে প্রতিবছর ৬০ হাজার বর্গ কিমি এলাকাতে মরু প্রসার ঘটেছে ।

মরু অঞ্চল সম্প্রসারণ এর কারণ:
মরু অঞ্চলের সম্প্রসারণ একটি অত্যন্ত ধীর প্রক্রিয়া হলেও এক্ষেত্রে ওই অঞ্চলের উষ্ণতা ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। মরু অঞ্চলের সম্প্রসারনের জন্য দায়ী কারণগুলি কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- প্রাকৃতিক কারণ ও মনুষ্যসৃষ্ট কারণ
প্রাকৃতিক কারণ:
১.আবহাওয়ার পরিবর্তন:
 গ্রীন হাউস ইফেক্ট, ওজন গহবর সৃষ্টি, বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি, ধূলিঝড় প্রভৃতির ফলে বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মরু অঞ্চলের সম্প্রসারণ ঘটছে।
২.বায়ুর কার্য:
মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুর কার্য ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করায় বালির অবক্ষেপণ-এর ফলে মরুভূমির প্রসার ঘটে। 
৩.খরা প্রবণতা:
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে খরা প্রবণ অঞ্চলে মাটি শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়। ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল মারা যায়।ব্যাপকহারে ভূমিক্ষয় ও বৃষ্টিহীন অঞ্চল মরু অঞ্চলে পরিণত হয়।
মনুষ্য সৃষ্ট কারণ:
১.বনভূমি ধ্বংস:
নগরায়ন, শিল্পায়ন, অতিরিক্ত পশুচারণ, অসাধু চোরা শিকারিদের জন্য বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। ফলে উক্ত অঞ্চলটি বৃষ্টিহীন হয়ে পড়ছে এবং মরু অঞ্চলে সম্প্রসারণ ঘটছে।
২.অতিরিক্ত পশুচারণ:
জমির বহন ক্ষমতার তুলনায় কোন অঞ্চলে অত্যধিক পশুচারণ এর ফলে ওই অঞ্চল উদ্ভিদ শূন্য হয়ে পড়ে। ফলে পরোক্ষভাবে বৃষ্টিপাত কমে মরু অঞ্চলে পরিণত হয়।
৩.লবণাক্তকরন:
মৃত্তিকায় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, লবণ অক্সাইড প্রভৃতি সঞ্চয়ের ফলে মৃত্তিকা শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে ঐ অঞ্চলটি মরু অঞ্চলে পরিণত হয় ।
৪.অবৈজ্ঞানিক উপায়ে জলসেচ:
অবৈজ্ঞানিক উপায়ে জলসেচের ফলে মাটি লবণাক্ত ও অনুর্বর হয়ে যায়। যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মরু অঞ্চলের সম্প্রসারণের জন্য দায়ী।

মরু অঞ্চল সম্প্রসারণের ফলাফল:
১.মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে কৃষিজমি ধ্বংস হয়।
২.উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃত্যু ঘটে জীব বৈচিত্র্য হ্রাস পায়।৩. ৩.ভৌমজল ভান্ডারে সংকট সৃষ্টি হয়।
৪. মরুকরণ কবলিত এলাকা থেকে মানুষ পরিবেশগত পরিব্রাজনের বাধ্য হয়।


মরু অঞ্চলের প্রতিরোধের উপায়

মরু অঞ্চলের প্রতিরোধের উপায়: ১.ভূমিক্ষয় রোধ করা: মরু প্রান্তীয় এলাকায় মাটি ক্ষয় রোধ করতে ঢালু এলাকায় সমোন্নতিরেখা চাষ, বায়ুরোধক দেয়া...