Sunday, May 24, 2020

সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণ - Causes of Origin of Ocean Currents

সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণ - Causes of Origin of Ocean Currents

সমুদ্রের বিপুল জলরাশি যখন নিয়মিতভাবে , নির্দিষ্ট দিকে, অনুভূমিক আকারে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়, তখন সেই প্রবাহমান জলরাশিকে সমুদ্রস্রোত বলে। 
সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণ গুলি হল -


1.বায়ুপ্রবাহ:
ভূপৃষ্ঠের উপর দিয়ে নিয়মিতভাবেই নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত নিয়ত  বায়ুগুলি( আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু, ও মেরু বায়ু) সমুদ্রপৃষ্ঠের জলরাশিকে নিজের প্রবাহের দিকে টেনে নিয়ে যায় এবং সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি করে। 
যেমন- 
i. আয়নবায়ুপ্রবাহ অনুসারে উত্তর গোলার্ধে উত্তর পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ পূর্ব দিক থেকে সমুদ্র স্রোত প্রবাহিত হয়। উদাহরণ- প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত। 
ii. পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে সমুদ্র স্রোত প্রবাহিত হয়। উদাহরণ- উপসাগরীয় স্রোত। 
iii. মেরু বায়ুর প্রভাবে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে সমুদ্র স্রোত প্রবাহিত হয়। উদাহরণ- ল্যাব্রাডর স্রোত , বেরিং স্রোত। 
2.পৃথিবীর আবর্তন গতি:
পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস বল সমুদ্রস্রোতের গতির সাথে সমকোণে ক্রিয়া করে। এর ফলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায় এবং নতুন সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি ঘটায় ।যেমন- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত ডানদিকে বেকে জাপান বা কুরোশিও স্রোতের সৃষ্টি হয়। 

3.সমুদ্র জলের উষ্ণতা:
নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে সূর্যরশ্মি পতনকোনের তারতম্যের জন্য সমুদ্র জলের উষ্ণতা ক্রমশ কমতে থাকে। ফলে, নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ ও হালকা জলরাশি বহিঃ স্রোত রূপে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।এই শূন্যতা পূরণের জন্য তখন মেরু অঞ্চলের শীতল ও  ভারী জলরাশি অন্তঃস্রোতরূপে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় । যেমন- উপসাগরীয় উষ্ণ স্রোত নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে সুমেরুর দিকে প্রবাহিত হয়। 

4.সমুদ্র জলের লবনতা:
সমুদ্রের অধিক লবণাক্ত জল ভারী হওয়ায় সমুদ্রের নিম্নাংশ দিয়ে অন্তঃ স্রোত রূপে কম লবণাক্ত হালকা জলের দিকে বয়ে যায় এবং কম লবণাক্ত জল হালকা হওয়ায় সমুদ্রের ওপরের অংশ দিয়ে বহিঃ স্রোত রূপেক অধিক লবণাক্ত জলের দিকে প্রবাহিত হয়। যেমন- আটলান্টিক মহাসাগর থেকে ভূমধ্য সাগরের দিকে জলরাশির বহিঃ স্রোতের মূল কারণ লবণতার পার্থক্য। 

5.সমুদ্র জলের ঘনত্ব:
উষ্ণতা, লবনতা, চাপ প্রভৃতি তারতম্যের জন্য সমুদ্র জলের ঘনত্বের তারতম্য ঘটে । নিয়মানুসারে কম ঘনত্বের জলরাশি বহিঃস্রোত রূপে অধিক ঘনত্ব অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়, আবার অধিক ঘনত্ব জলরাশি অন্তঃস্রোতরূপে কম ঘনত্ব অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় । যেমন- পূর্ব  গ্রীনল্যান্ড স্রোত অন্তঃস্রোতরূপে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়। 

6.বরফের গলন:
দুই মেরু সংলগ্ন সমুদ্রে বরফ যেখানে গলে যায় সেখানে জলরাশির পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পায় এবং সমুদ্রে জলের লবনতা হাস পায়। উভয় কারণেই ওই জলরাশি কম লবণাক্ত ও স্বল্প জলরাশি সমন্বিত অঞ্চলের দিকে ধাবিত  হয়ে সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি করে। 

7.ঋতু পরিবর্তন:
ঋতুভেদে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন হয়, অধঃক্ষেপনের হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে। এর ফলে সমুদ্রস্রোতের দিক ও গতির পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেমন- ভারত মহাসাগরে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মৌসুমী স্রোত উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয় এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়। 

8. উপকূলের আকৃতি:
সমুদ্রস্রোতের প্রবাহপথে মহাদেশীয় উপকূলভাগ বা দ্বীপ অবস্থান করলে সমুদ্রস্রোত বাধা পেয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং নতুন সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয় । যেমন- আটলান্টিক মহাসাগরে দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত ব্রাজিল উপকূলে বাধা পেয়ে ব্রাজিল স্রোত ও ক্যালিফোর্নিয়া স্রোত এর সৃষ্টি হয়েছে। 

এগুলি ছাড়াও 
9.মাধ্যাকর্ষণ শক্তি
10.সমুদ্রতলের ভূপ্রকৃতি 
11.বাষ্পীভবন 
12.বায়ুর চাপের তারতম্য 
13.সামুদ্রিক শৈলশিরার উপস্থিতি প্রভৃতি কারণ সমুদ্র সৃষ্টিতে প্রভাব বিস্তার করে। 


Thursday, May 21, 2020

সমুদ্রস্রোতের ধারণা(Concept of ocean 🌊 currents)

সমুদ্রস্রোত (Ocean currents):

পৃথিবীর আবর্তন গতি, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রজলের লবনতা, উষ্ণতা, ঘনত্বের তারতম্য, সমুদ্রের গভীরতার পার্থক্য, তটরেখা রেখার প্রকৃতি প্রভৃতি কারণে সমুদ্রের জলরাশি নিয়মিত, নিরবিচ্ছিন্নভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়, একে সমুদ্রস্রোত বলে। 

সমুদ্রের বিপুল জলরাশি যখন নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট দিকে আনুভূমিক আকারে একস্থান থেকে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়, তখন ওই  প্রবহমান জলরাশিকে সমুদ্রস্রোত বলে। 


বৈশিষ্ট্য
1.সাধারণত সমুদ্রস্রোত একটি নির্দিষ্ট দিকে (একমুখী) প্রবাহিত হয়। তবে ভারত মহাসাগরে মৌসুমী স্রোত বিপরীতমুখী। 
2.সমুদ্রস্রোতের গতিবেগ ঘন্টায় 3-9KM। 
3.গভীর সমুদ্রের তুলনায়(3-3.5km/hour)অগভীর সমুদ্রে সমুদ্রস্রোতের গতিবেগ বেশি(7-9km/hour)। 
4.ফেরেলের সূত্র অনুসারে সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। 



সমুদ্রতরঙ্গ(Sea waves):
প্রবল বায়ুপ্রবাহ ও ভূমিকম্পের প্রভাবে সমুদ্রের উপরিভাগে জলরাশি একই স্থানে আবদ্ধ থেকে উলম্বভাবে কয়েক ফুট বা মিটার ওঠানামা করলে তাকে সমুদ্রতরঙ্গ বলে। অর্থাৎ এতে সমুদ্রেরজলের আনুভূমিক স্থানান্তর হয় না। 

বায়ু প্রবাহের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের জলরাশি একই স্থানে অবস্থান করে পর্যায়ক্রমে নিরবিচ্ছিন্নভাবে উপরে নিচে ওঠানামা করে একে, সমুদ্র তরঙ্গ বলে। 


সমুদ্রস্রোতের প্রকারভেদ(Types of ocean currents):
উষ্ণতার তারতম্যের ভিত্তিতে সমুদ্রস্রোতকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় । যথা- উষ্ণস্রোত ও শীতলস্রোত । 

1.উষ্ণস্রোত(Warm currents) :
নিরক্ষীয় তথা ক্রান্তীয় অঞ্চলের উষ্ণ সমুদ্রের উষ্ণ ও হাল্কা জলরাশি সমুদ্রজলের উপরিভাগ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহরূপে শীতল মেরুঅঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় , একে বলে উষ্ণস্রোত বলে। 
উষ্ণ ও হালকা জলরাশি সমুদ্রজলের উপরিভাগ দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে একে বহিঃস্রোত বলে। 
যেমন- উষ্ণ উপসাগরীয় বা নিরক্ষীয় স্রোত। 

2.শীতলস্রোত(Cold currents) :
উচ্চ অক্ষাংশে  তথা মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী জলরাশি সমুদ্রের নিচের অংশ দিয়ে অন্তঃস্রোতরূপে নিম্ন অক্ষাংশ তথা উষ্ণমন্ডলের  দিকে প্রবাহিত হয়। একে শীতল স্রোত বলে। 
শীতল ও ভারী জলরাশি সমুদ্র জলের নিচের অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে, একে অন্তঃস্রোত বলে। 
যেমন - ল্যাব্রাডর স্রোত । 

আটলান্টিক, প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরে কি কি শীতল ও উষ্ণ স্রোত সৃষ্টি হয় তার তালিকা ও মানচিত্র নিম্নরূপ-






ভারতের উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল ও দ্বীপপুঞ্জ

উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল :

অবস্থান
দাক্ষিণাত্য মালভূমির পূর্বে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে আরব সাগরের উপকূল বরাবর বৃস্তিত সংকীর্ণ সমভূমি হল উপকূলীয় সমভূমি এই অঞ্চলের মোট দৈর্ঘ্য 100 কিমি উৎপত্তি ভূ-প্রাকৃতিক তারতম্য অনুসারে উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল কি দুটি ভাগে ভাগ করা যায় যথা-
  • i.পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি 
  • ii.পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি


i.পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি :
বাংলাদেশের পশ্চিম সীমা থেকে  কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত প্রায় 1500 কিমি বিস্তৃত সমভূমিকে উপকূলীয় সমভূমি বলে। 
এই সমভূমি অঞ্চল কে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় । যথা-
  • উত্তর-সরকার উপকূল ( উড়িষ্যা উপকূল ও অন্ধ্র উপকূল) 
  • করমন্ডল উপকূল (তামিলনাড়ু উপকূল) 
উত্তর সরকার উপকূল:
উড়িষ্যার সুবর্ণরেখা নদীর মোহনা থেকে দক্ষিনে কৃষ্ণা নদী ব-দ্বীপের পূর্বভাগের বৃস্তিত সমভূমিকে উত্তর সরকার উপকূল বলে। এই উপকূলীয় সমভূমি প্রায় 400 কিমি দীর্ঘ ও 80 কিমি প্রশস্ত। উত্তর সরকার উপকূল এর উত্তরাংশ উড়িষ্যা উপকূল এবং দক্ষিণাংশ অন্ধ্র উপকূল নামে পরিচিত। 

করমন্ডল উপকূল:
কৃষ্ণানদীর বদ্বীপ থেকে কন্যা কুমারিকা পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলকে করমন্ডল উপকূল বলে। পুলিকট উপহ্রদ থেকে কন্যাকুমারিকা পযর্ন্ত বিস্তৃত উপকূলকে তামিলনাড়ু উপকূল বলে। এই উপকূলে অবস্থিত বালিয়াড়ি উচ্চতা 35 থেকে 65 মিটার । একে থেড়়িস বলে। 

ii.পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি:
উত্তরের পাকিস্তানের সীমানাকে দক্ষিণের প্রায় কুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত বিস্তৃত পশ্চিম উপকূলের দৈর্ঘ্য প্রায় ষোল সেমি এবং প্রস্থ প্রায় 15 থেকে 18 কিমি এই উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল কে  ছয় ভাগে ভাগ করা যায় । যথা-
  • কচ্ছ উপদ্বীপ
  • কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ 
  • গুজরাট সমভূমি
  • কঙ্কন উপকূল 
  • কর্ণাটক উপকূল 
  • মালাবার উপকূল
কচ্ছ উপদ্বীপ:
গুজরাট উপকূলের উত্তরাংশে কচ্ছ উপদ্বীপ অবস্থিত । কচ্ছ শব্দের অর্থ জলাময় দেশ । কচ্ছ এর উত্তরে রয়েছে বৃহৎ রান এবং দক্ষিণে ক্ষুদ্র রান। 

কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ:
গুজরাট উপকূলের দক্ষিণাংশে অবস্থিত লাভা গঠিত মালভূমি কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ নামে পরিচিত ।গোরক্ষনাথ এখানকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। 

গুজরাট সমভূমি:
কাথিয়াবাড় উপদ্বীপের দক্ষিনে অবস্থিত সবরমতী,মাহি, নর্মদা, তাপ্তি প্রভৃতি নদীর পলি সঞ্চয়ের ফলে গুজরাট সমভূমি সংগঠিত হয়েছে। 

কঙ্কন উপকূল:
উত্তর সুরাট থেকে দক্ষিনে গোয়া পর্যন্ত প্রসারিত 45 থেকে 75 কিমি প্রশস্ত উপকূল কঙ্কন উপকূল নামে পরিচিত। 

কর্ণাটক উপকূল:
কর্ণাটক রাজ্যের প্রায় 25 কিমি দীর্ঘ কর্ণাটক উপকূল বিস্তৃত। 

মালাবার উপকূল:
ম্যাঙ্গালোর থেকে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূল হল মালাবার উপকূল ।এই উপকূলে ভেম্বানাদ, অষ্টমুদি কয়াল অবস্থিত। 

5.দ্বীপপুঞ্জ:

অনেকগুলি ছোট ছোট দ্বীপকে একসঙ্গে দ্বীপপুঞ্জ বলা  হয় । ভারতের দুটি দ্বীপপুঞ্জ রয়েছে । যথা-
  • আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ 
  • লাক্ষা দ্বীপপুঞ্জ 

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ:
  • বঙ্গোপসাগরের 265 টি ছোট বড় দ্বীপ নিয়ে ভারতের বৃহত্তম দ্বীপপুঞ্জ আন্দামান ও নিকোবর গড়ে উঠেছে । 
  • এর মোট আয়তন প্রায় 8249 বর্গ কিমি। 
  •  এই দ্বীপপুঞ্জ উত্তর-দক্ষিণে প্রায় 170 কিমি দীর্ঘ এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় 100 কোটি কিমি প্রশস্ত। 
  • এই দ্বীপপুঞ্জ প্রকৃতপক্ষে আগ্নেয় দ্বীপের সমষ্টি তবে নিকোবর দ্বীপের কিছু অংশ  প্রবাল দ্বারা গঠিত। 
  • স্যাডল পিক( 737 মিটার )এখানকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। 
  • এই দ্বীপপুঞ্জের ব্যারেন একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি এবং নারকোন্ডাম একটি মৃত আগ্নেয়গিরি। 
  • আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ 10 ডিগ্রি চ্যানেল দ্বারা বিচ্ছিন্ন। 
  • গ্রেট নিকোবর এর দক্ষিণতম বিন্দু ইন্দিরা পয়েন্ট ভারতের দক্ষিণতম স্থলবিন্দু। 

লাক্ষা দ্বীপপুঞ্জ:
  • আরব সাগরের বুকে 36 টি ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে লাক্ষাদ্বীপ গড়ে উঠেছে । 
  • এর আয়তন প্রায় 32 বর্গ কিমি। 
  • এই দ্বীপপুঞ্জের সব দ্বীপ ই প্রবাল কীটের দেহাবশেষ জমে সৃষ্ট প্রবাল দ্বীপ। 
  • দ্বীপগুলির কোন স্থানই সমুদ্রতলের 5 মিটারের বেশী উচু নয়। 
  • দ্বীপ গুলির মধ্যে মিনিকয়, আমিনদিভি, লাক্ষাদ্বীপ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
  •  মিনিকয় খানকার সবচেয়ে বড় দ্বীপ। 

Thursday, May 14, 2020

উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল

উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল :

অবস্থান:
উত্তরে গঙ্গা সমভূমি থেকে দক্ষিনে কন্যাকুমারিকা, পূর্বে পূর্বঘাট পর্বত থেকে পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বতের মধ্যবর্তী অংশ উপদ্বীপীয় মালভূমির অন্তর্গত। ভারতের বৃহত্তম ভূপ্রাকৃতিক বিভাগ হল এই উপদ্বীপীয় মালভূমি। 

ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে এই অঞ্চলটিকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় যথা-
  • i.মধ্য ও পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি
  • ii.দাক্ষিণাত্যের মালভূমি

উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল
 উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল



i.মধ্য ও পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি:
ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে মধ্য ও পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি কে দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায় যথা-
  • মধ্য ভারতের উচ্চভূমি 
  • পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি
মধ্য ভারতের উচ্চভূমি:
উত্তর -পশ্চিমে আরাবল্লী পর্বত থেকে দক্ষিনে নর্মদা উপত্যকায় এবং পূর্বে রেওয়া মালভূমি পর্যন্ত মধ্য ভারতের উচ্চভূমি বিস্তারিত। এই অঞ্চলটি দক্ষিন থেকে উত্তর  ও উত্তরপূর্ব দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে গেছে। 

মধ্য ভারতের উচ্চভূমি অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক অংশগুলি হল -
  • আরাবল্লী পর্বত
  • পূর্ব রাজস্থান উচ্চভূমি 
  • মধ্য ভারতের মালভূমি 
  • বুন্দেলখন্ড মালভূমি
  • মালব মালভূমি
  • রেওয়া মালভূমি
  • বিন্ধ পর্বত 
  • নর্মদা উপত্যাকা
আরাবল্লী পর্বত:
 ভারতের প্রাচীনতম ভঙ্গিল পর্বত আরাবল্লী, এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ গুরুশিখর (1772 মিটার) । 

পূর্ব রাজস্থান উচ্চভূমি:
আরাবল্লীর পূর্বে অবস্থিত এই উচ্চভূমির গড় উচ্চতা 200 থেকে 500 মিটার। 

মধ্য ভারত মালভূমি:
এটি অতি প্রাচীন আগ্নেয় ও পরিবর্তিত শিলা দ্বারা গঠিত একটি তরঙ্গায়িত মালভূমি অঞ্চল। চম্বল ও বানস এই অঞ্চলের প্রধান নদী। 

বুন্দেলখন্ড মালভূমি:
মধ্যভারত উচ্চভূমির উত্তর পূর্ব অংশে অবস্থিত এই অঞ্চলটি গ্রানাইট ও নিস শিলা দ্বারা গঠিত। 

মালব মালভূমি:
রাজস্থান উচ্চভূমি দক্ষিণ-পূর্বে ও  বিন্ধ পর্বত এর উত্তরে লাভা গঠিত মালব মালভূমি অবস্থিত। 

রেওয়া মালভূমি:
বুন্দেলখন্ড মালভূমি ও শোন নদীর মধ্যে রেওয়া মালভূমি অবস্থিত। লাভা দ্বারা গঠিত মালভূমি পশ্চিম থেকে পূর্বে তিনটি খাড়া ঢাল সিঁড়ির মত নেমে গেছে। 

বিন্ধ পর্বত:
মধ্য ভারতের উচ্চভূমি দক্ষিণে প্রায় 1050 কিমি দীর্ঘ এবং 300 মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট বিন্ধ পর্বত অবস্থিত। 
এ সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মানপুর। 

নর্মদা উপত্যাকা:
দক্ষিনে সাতপুরা ও উত্তরে বিন্ধ পর্বতের মাঝে সৃষ্ট গ্রস্ত উপত্যকার মধ্য দিয়ে নর্মদা নদীর প্রবাহের ফলে নর্মদা উপত্যকায় সৃষ্টি হয়েছে। 

পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি:
শোন নদী অববাহিকার দক্ষিণ-পূর্বে এবং মহাকাল পর্বতের পূর্বে পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি অবস্থিত। 
এই অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক অংশগুলি হল-
  • ছোটনাগপুর মালভূমি 
  • বাঘেলখন্ড মালভূমি 
  • মহানদী অববাহিকা
  • দণ্ডকারণ্য ও গড়জাত পাহাড় 
ছোটনাগপুর মালভূমি:
রাচি , হাজারীবাগ ও কোডামা মালভূমি নিয়ে ছোটনাগপুর মালভূমি গঠিত। এর গড় উচ্চতা 400 থেকে 1000 মিটার । এই অঞ্চলে হুড্র্য, জোনা , দশম রাজরাপ্পা জলপ্রপাত উল্লেখযোগ্য। 

বাঘেলখন্ড মালভূমি:
এই মালভূমি মহাকাল পর্বতের পূর্ব পূর্বে এবং মহানদীর অববাহিকা উত্তরে অবস্থিত। এই অঞ্চলটি পাললিক ও গ্রানাইট শিলা দ্বারা গঠিত। 

মহানদী অববাহিকা:
250 থেকে 300 মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট মহানদীর অববাহিকা চুনাপাথর ও সিলেট দ্বারা গঠিত। 

দণ্ডকারণ্য ও গড়জাত পাহাড়: 
মহানদী পূর্বাংশে উড়িষ্যার 400 থেকে 1000 মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট বোনাই, সিমলিপাল, কেওনঝড় পাহাড় নিয়ে গঠিত । ছত্রিশগড় সমভূমির দক্ষিণে বাস্তার, কোরাপুট, কালাহান্ডি জেলায় দণ্ডকারণ্য অঞ্চলটি অবস্থিত। 

মধ্য ও পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি
মধ্য ও পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি


ii.দাক্ষিণাত্যের মালভূমি:
উত্তরের সাতপুরা মহাকাল পর্বত থেকে দক্ষিনে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত এবং পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা থেকে পূর্বে পূর্বঘাট পর্বতমালা পর্যন্ত বিস্তৃত ত্রিভুজাকার ভূখণ্ড দাক্ষিণাত্য মালভূমি নামে পরিচিত। 

দাক্ষিণাত্য মালভূমিকে  দুটি ভাগে ভাগ করা যায় । যথা- পার্বত্য ভূমি ও মালভূমি। 

পার্বত্য ভূমি উল্লেখযোগ্য পর্বতগুলি হল-
  • পশ্চিমঘাট পর্বত 
  • পূর্বঘাট পর্বত 
  • নীলগিরি পর্বত
  • সাতপুরা পর্বত
পশ্চিমঘাট পর্বত:
 এটি একটি স্তুপ পর্বত । আরব সাগরের উপকূল বরাবর প্রায় 1600 কিমি দীর্ঘ। গড় উচ্চতা 900 থেকে 1000 মিটার । আনাইমালাই পর্বত এর আনাইমুদি ( 2695) মিটার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। এটি দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। 

পূর্বঘাট পর্বতমালা:
 এটি একটি ক্ষয়জাত পর্বত। পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্বে, ভারতের পূর্ব উপকূল বরাবর পূর্বঘাট পর্বতমালা অবস্থিত। এর উচ্চতা 450 থেকে 600 মিটার। আমাকোন্ডা পূর্বঘাটের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। 

নীলগিরি:
 পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পর্বত দুটি নীলগিরি পর্বতে এসে   মিলিত হয়েছে তাই একে পর্বতগ্রন্থি বলে। 1500 থেকে 2000 মিটার গড় উচ্চতা। দোদাবেতা( 2637 মিটার)সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। 

সাতপুরা পর্বত:
দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর প্রান্তে অবস্থিত সাতপুরা হলো একটি স্তুপ পর্বত। এর দৈর্ঘ্য 900 কিমি । উচ্চতা  500 থেকে 600 মিটার। এখানে সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ধূপগড় (1350 মিটার) । 

মালভূমি অংশের তিনটি ভাগ। সেগুলি হল -
  • মহারাষ্ট্র মালভূমি
  • কর্ণাটক মালভূমির 
  • তেলেঙ্গানা মালভূমি
মহারাষ্ট্র মালভূমি:
দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর ও উত্তর পশ্চিম অংশ জুড়ে অবস্থিত। মালভূমির সমতল চুরা যুক্ত পর্বত গুলি ধাপে ধাপে দক্ষিণ-পূর্বে নেমে এসেছে একে ডেকান ট্রাপ বলে। 

কর্ণাটক মালভূমি:
দাক্ষিণাত্য মালভূমি দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ জুড়ে অবস্থিত। 
এটি প্রধানত গ্রানাইট ও নিস শিলা  দ্বারা গঠিত। এই মালভূমির পশ্চিমের উঁচু-নিচু ঢেউ খেলানো ভূমিকে মালনাদ বলে। পূর্বের অনুচ্চ মৃদু তরঙ্গায়িত ভূমি ভাগকে  ময়দান বলে। 

তেলেঙ্গানা মালভূমি:
কর্ণাটক মালভূমির পূর্বে তেলেঙ্গানা রাজ্য জুড়ে এই মালভূমি অবস্থিত। প্রধানত  নিস  শিলা দ্বারা গঠিত । সাতমালা এখানকার প্রধান পাহাড়। 

দাক্ষিণাত্যের মালভূমি
দাক্ষিণাত্যের মালভূমি




Monday, May 4, 2020

উত্তরের সমভূমি অঞ্চল

উত্তরের সমভূমি অঞ্চল :


অবস্থান:
উত্তরের হিমালয় পর্বত অঞ্চল ও দক্ষিণে উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলের মাঝখানে এই সমভূমি অঞ্চল অবস্থিত । 

আয়তন 
এই সমভূমি পূর্ব পশ্চিমে প্রায় 2500 কিমি দীর্ঘ এবং উত্তর-দক্ষিণে প্রায় 240-320 কিমি প্রশস্ত। সমগ্র সমভূমির মোট আয়তন প্রায় 6,52,000 বর্গ কিমি। 



উৎপত্তি 
ভূতত্ত্ববিদদের মতে হিমালয় পর্বত সৃষ্টির সময় প্রবল চাপে গণ্ডয়ানাল্যান্ডের' উত্তরপ্রান্ত নিচের দিকে বেঁকে গিয়ে উপত্যাকা গঠিত হয় । পরবর্তীকালে এই উপত্যকায় হিমালয় ও দক্ষিণ ভারত থেকে আসা বিভিন্ন নদী যেমন গঙ্গা , যমুনা, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি পলি সঞ্চয়ের ফলে এই সমভূমি সৃষ্টি হয়। 

শ্রেণীবিভাগ
উত্তরের সমভূমি অঞ্চল ভূ-প্রাকৃতিক ও আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চারভাগে বিভক্ত। যথা -
  • i.রাজস্থান সমভূমি বা মরু অঞ্চল 
  • ii.সিন্ধু ও শতদ্রু সমভূমি 
  • iii.গাঙ্গেয় সমভূমি 
  • iv.ব্রহ্মপুত্র সমভূমি

উত্তরের সমভূমি অঞ্চল
উত্তরের সমভূমি অঞ্চল 



i.রাজস্থান সমভূমি বা মরু অঞ্চল:
মূলত রাজস্থান এবং গুজরাট , পাঞ্জাব ও হরিয়ানার সামান্য অংশ জুড়ে অবস্থিত ভারতের এই মরু অঞ্চলের নাম থর।( মরুস্থলি

  • মরুস্থলির প্রস্তরময় অঞ্চলের নাম হামাদা ।
  • সমান্তরাল বালিয়াড়িগুলি মধ্যবর্তী অবনমিত অংশে বায়ুপ্রবাহের অপসারণজনিত কারণে সৃষ্ট গহবরে লবণাক্ত জলের হ্রদ দেখা যায়। 
  • মরুভূমির চলমান বালিয়াড়ি গুলিকে বলে ধ্রিয়ান । 
  • সমভূমি পূর্ব ভাগের অপেক্ষাকৃত কম বালুময় তৃণভূমি বাগার নামে পরিচিত । এখান দিয়ে লুনি নদী প্রবাহিত হয়েছে। 
  • বাগারের পশ্চিমে প্লাবন সমভূমি কে রহি বলে। 
  • থর মরুভূমি নিচু অংশে এবং জয়সালমীর শহরে কয়েকটি লবণাক্ত জলের হ্রদ দেখা যায় । এখানকার সম্বর হ্রদ হল সমগ্র রাজস্থান মরুভূমি বৃহত্তম হ্রদ। 
  • যেসব স্থানে ভৌম জলস্তর ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে , সেখানে কিছু পরিমাণ খেজুর , পাম জাতীয় গাছ ও তৃন জন্মায়। এইসব স্থানকে মরুদ্দ্যান বলে। 

ii.সিন্ধু ও শতদ্রু সমভূমি:
পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থানের সামান্য অংশ জুড়ে এই সমভূমি অবস্থিত। 
সিন্ধুর পাঁচটি উপনদী শতদ্রু, বিপাশা, বিতস্তা, ইরাবতী ও চন্দ্রভাগা দ্বারা এই সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে বলে একে পাঞ্জাব সমভূমিও বলা হয়। 
  • এখানকার প্লাবনভূমি স্থানীয় ভাষায় ধায়া নামে পরিচিত। 
  • নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নবীন প্লাবনভূমি কে বেট বলে। 
  • দুটি নদীর মধ্যবর্তী অংশে পলি সঞ্চিত হয়ে উচ্চভূমির সৃষ্টি হলে তাকে দোয়াব বলে। 
  • উত্তরের ক্ষয়প্রাপ্ত অংশ খোঁশ বা চোস নামে পরিচিত। 
  • সমভূমির মাঝে মাঝে গড়ে ওঠা ছোট ছোট বালিয়াড়িকে ভুর বলে। 
  • এই সমভূমির গড় উচ্চতা 200 থেকে 300 মিটার। 

iii.গাঙ্গেয় সমভূমি :
দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এই সমভূমি বিস্তৃত। 
এর মোট আয়তন প্রায় 3 লক্ষ 75 হাজার বর্গ কিমি। 

আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সমগ্র সমভূমিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় যথা-
  • উচ্চগাঙ্গেয় সমভূমি 
  • মধ্যগাঙ্গেয় সমভূমি 
  • নিম্নগাঙ্গেয় সমভূমি

উচ্চগাঙ্গেয় সমভূমি:
যমুনা নদীর বাম তীর থেকে এলাহাবাদ পর্যন্ত অংশ উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমি নামে পরিচিত । এর গড় উচ্চতা 100 মিটার এবং এটি প্রায় 630 কিমি অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত । গঙ্গা ও যমুনা নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল গঙ্গা-যমুনা-দোয়াব অঞ্চল নামে পরিচিত। এই অঞ্চলে প্রাচীন পলিসমৃদ্ধ  অঞ্চল ভাঙ্গর এবং  নবীন পলি গঠিত অঞ্চল খাদার নামে পরিচিত । উচ্চ গঙ্গা সমভূমির পর্বতের পাদদেশের  অঞ্চল  ভাবর  এবং দক্ষিণের অংশ তরাই নামে পরিচিত । 

মধ্যগাঙ্গেয় সমভূমি:
পশ্চিমে এলাহাবাদ থেকে পূর্বে রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত প্রায় 650 কিমি বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে মধ্যগাঙ্গেয় সমভূমি বিস্তৃত। এই সমভূমির অন্তর্গত জলাভূমিগুলি উত্তর বিহারে চাউর এবং দক্ষিণ বিহারে তাল নামে পরিচিত। 

নিম্নগাঙ্গেয় সমভূমি:
রাজমহল থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যবর্তী অংশে প্রায় 81000 বর্গ কিমি অঞ্চলজুড়ে নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি বিস্তৃত । এর উচ্চতা 30 মিটারের কম। এই উপ অঞ্চলটি চার ভাগে বিভক্ত ।যথা- 
  • তরাই ও ডুয়ার্স 
  • বরেন্দ্রভূমি
  • রাঢ় সমভূমি
  • বদ্বীপ অঞ্চল

iv.ব্রহ্মপুত্র সমভূমি:
ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদী দ্বারা পলি সঞ্চয়ের ফলে অসম রাজ্যজুড়ে গড়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র সমভূমি। 
  • এটি একটি প্লাবন সমভূমি কারণ এই সমভূমি অত্যন্ত বন্যাপ্রবণ। 
  • এই সমভূমিতে নদীর বুকে অসংখ্য বালুচর বা দ্বীপ দেখা যায়, যার মধ্যে মাজুলী পৃথিবীর বৃহত্তম নদী দ্বীপ। 
  • এই সমভূমির গড় উচ্চতা 30 থেকে 110 মিটার। 

  • https://youtu.be/-PaWb5NZ1kE





     

উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল

উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল:


অবস্থান:
ভারতের একবারে উত্তরে অবস্থিত পার্বত্য অঞ্চল উত্তর-পশ্চিমে জম্বু কাশ্মীর ( নাঙ্গা পর্বত) থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বে অরুণাচল প্রদেশ (নামচাবারোয়া) পর্যন্ত ধনুক বা আধখানা চাঁদের মতো অবস্থান করছে। 
পর্বতশ্রেণী:
ভূপ্রকৃতির বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভারতের পার্বত্য অঞ্চলটিকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় যথা- 
  • i.হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল 
  • ii..উত্তর-পূর্ব ভারতের পার্বত্যভূমি বা পূর্বাঞ্চল



i.হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল:
পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত শ্রেণী হলো হিমালয় হিমালয় কথার অর্থ বরফের গৃহ। ভূ-প্রাকৃতিক গঠনের ভিত্তিতে হিমালয় পর্বতকে উত্তর থেকে দক্ষিনে প্রস্থ বরাবর চারটি সমান্তরাল পর্বতশ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়। যথা-
  • a.ট্র্যান্স বা টেথিস হিমালয় 
  • b.হিমাদ্রি হিমালয়
  • c.হিমাচল হিমালয় 
  • d. শিবালিক হিমালয়

a.ট্র্যান্স বা টেথিস হিমালয় :
হিমালয় চারটি পর্বত শ্রেনীর মধ্যে সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত হল ট্র্যান্স বা টেথিস হিমালয় । ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশে কিছু অংশ থাকলেও এর অধিকাংশই তিব্বতে অবস্থিত। তাই এর নাম তিব্বতীয় হিমালয় ।
  •  টেথিস নামক মহীখাত এ 12 কোটি বছর আগে প্রথম ভূ আলোড়নে হিমালয়ের এই অংশ সৃষ্টি হয় বলে একে টেথিস হিমালয় বলা হয়। 
  • এখানকার গড় উচ্চতা 3000 থেকে 5000 মিটার । জাস্কার , লাদাখ ও কারাকোরাম এই অংশের প্রধান পর্বত। জাস্কার পর্বতে লিওপারগেল(7420) এই অংশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। 

b.হিমাদ্রি হিমালয়:
টেথিস হিমালয়ের দক্ষিণে অবস্থিত সর্বোচ্চ পর্বত শ্রেণী হিমাদ্রি নামে পরিচিত । টেথিস হিমালয় সৃষ্টির সময়ে হিমাদ্রি হিমালয় সৃষ্টি হয়। 
  • রূপান্তরিত শিলা দিয়ে গঠিত এই পর্বতমালার উচ্চতা 6000 মিটার । 
  • পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (8848 মিটার ) ও তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা হিমাদ্রি হিমালয়ে অবস্থিত। 
  • এছাড়াও অপর উল্লেখযোগ্য পর্বত শৃঙ্গ গুলি হল - মাকালু , ধবলগিরি , অন্নপূর্ণা , নন্দাদেবী ইত্যাদি। 
  • এই পর্বত শৃঙ্গ গুলিতে সারা বছর বরফ জমে থাকে । 

c.হিমাচল হিমালয় :
হিমাদ্রি হিমালয়ের দক্ষিণে যে সুউচ্চ পর্বত শ্রেণী পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত তাকে হিমাচল হিমালয় বা মধ্য হিমালয় বলে । প্রায় 2.5 থেকে 3 কটি বছর আগে দ্বিতীয়বার সংঘটিত প্রবল ভূআলোড়়নে হিমালয়ের এই অংশটি সৃষ্টি হয়। 
  • হিমাচল হিমালয়ের গড় উচ্চতা 3000 থেকে 4500 মিটার। 
  • এই পর্বতমালার গুরুত্বপূর্ণ পর্বতশ্রেণী হলো পিরপাঞ্জালমুসৌরি , ধওলাধর, নাগটিবা ইত্যাদি। 

d. শিবালিক হিমালয়:
হিমালয় সর্ব দক্ষিণের পর্বতশ্রেণী শিবালিক বা বহিঃ হিমালয় নামে পরিচিত । প্রায় 20 লক্ষ থেকে 2 কোটি বছর আগে তৃতীয় বার প্রবল আলোড়নে শিবালিক হিমালয় সৃষ্টি হয়। 
  • শিবালিক হিমালয়ের উচ্চতা 600 থেকে 1500মিটার। 
  • শিবালিক ও হিমাচল হিমালয়ের মাঝে সংকীর্ণ উপত্যকা কে বলা হয় দুন। যেমন- দেরাদুন , কোটা প্রভৃতি। 
  • শিবালিক হিমালয়ের পাদদেশে ঘন অরণ্যাবৃত স্যাঁতসেঁতে অঞ্চল হল তরাই অঞ্চল। 


আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয় পর্বতকে তিন ভাগে বিভক্ত  করা হয়।যথা-
  •  পশ্চিম হিমালয়
  •  মধ্য হিমালয় 
  • পূর্ব হিমালয়

পশ্চিম হিমালয়:
নবগঠিত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের দক্ষিণ-পশ্চিমে ও জম্বু কাশ্মীরের উত্তরাংশে অবস্থিত নাঙ্গা পর্বত থেকে পূর্বে নেপালের কালি নদী পর্যন্ত পশ্চিম হিমালয় অবস্থিত। সমগ্র জম্বু কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড নিয়ে এই অংশটি গঠিত হয়েছে। পশ্চিম হিমালয় তিনটি ভাগে বিভক্ত। যথা-
  •  কাশ্মীর হিমালয় 
  • হিমাচল হিমালয়
  •  কুমায়ুন হিমালয়

কাশ্মীর হিমালয়:
জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের 3,50,000 বর্গ কিমি স্থান জুড়ে কাশ্মীর হিমালয় অবস্থিত । এর দক্ষিণাংশে জম্বু ও পুঞ্জ  পাহাড় এবং উত্তরে রয়েছে পিরপাঞ্জাল পর্বত শ্রেণী । কাশ্মীর হিমালয়ের উল্লেখযোগ্য গিরিপথ গুলি হল - খারদুংলা, বানিহাল ,রোটাং প্রভৃতি । ডাল, উলার ও  নিশার হল উল্লেখযোগ্য হ্রদ। 

হিমাচল হিমালয়:
হিমাচল প্রদেশ এ অবস্থিত শতদ্রু ও যমুনা নদীর মধ্যবর্তী অংশে প্রায় 56,000 বর্গ কিমি স্থান জুড়ে হিমাচল হিমালয় বা পাঞ্জাব হিমালয় বিস্তৃত রয়েছে । এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পর্বতশ্রেণীগুলি হল পিরপাঞ্জাল, মসৌরি ,নাগটিবা। পিরপাঞ্জাল এর মধ্য দিয়ে রহটাং গিরিপথ উত্তরে লাহুল ও দক্ষিনে কুলু উপত্যকা দুটিকে যুক্ত করেছ। 

কুমায়ুন হিমালয়:
নবগঠিত রাজ্য উত্তরাখণ্ডের প্রায় 46,000 বগ কিমি স্থান জুড়ে কুমায়ুন হিমালয় অবস্থিত । নৈনিতাল সাততাল, ভিমতাল প্রভৃতি হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ এখানে দেখা যায়। উল্লেখযোগ্য পর্বত শৃঙ্গ গুলি হল নন্দাদেবী, কামেট, ত্রিশূল ইত্যাদি। 


মধ্য হিমালয়:
পশ্চিমে কালি নদী থেকে পূর্বে সিঙ্গালিলা পর্বতশ্রেণী পর্যন্ত নেপাল রাষ্ট্রের মধ্য দিয়ে মধ্য হিমালয় বিস্তার লাভ করেছে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট মধ্য হিমালয়ের অন্তর্গত। 

পূর্ব হিমালয়:
পশ্চিমে সিঙ্গালিলা থেকে পূর্ব ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত পূর্ব হিমালয় বিস্তৃত । সমগ্র পূর্ব হিমালয় কে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় । যথা -
  1. দার্জিলিং ও  সিকিম হিমালয় 
  2. ভুটান হিমালয় 
  3. অরুণাচল হিমালয়

দার্জিলিং ও সিকিম হিমালয়:
পূর্বে সিঙ্গালিলা ও ডঙ্গকিয়ালা পর্বতশ্রেণীর মধ্যে অবস্থিত এই অংশটি সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলা পার্বত্য  অংশে অবস্থিত । দার্জিলিং এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সান্দাকাফু (3630 মিটার) এবং সিকিমের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা  (8598 মিটার) পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ । ঘুম শৈলশিরা এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে। 

ভুটান হিমালয়
  ভুটান হিমালয় ভুটান রাষ্ট্রে অবস্থিত। চমলহারি( 7314) মিটার এই অংশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ । 

অরুণাচল হিমালয় 
এটি আসাম ও অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যে প্রায় 67500 বর্গকিমি স্থান জুড়ে অবস্থিত। এখানে শিবালিক , হিমাচল ও হিমাদ্রি পর্বতশ্রেণী দেখতে পাওয়া যায় । নামচাবারোয়া ( 7776 মিটার )এই অংশে সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।


ii.উত্তর-পূর্ব ভারতের পার্বত্যভূমি বা পূর্বাঞ্চল:
উত্তর-পূর্বের পার্বত্য ভূমি অঞ্চলটি মূলত পূর্ব হিমালয়ের অংশ। এই অঞ্চলটি উত্তরে চিন, পূর্বে মায়ানমার , দক্ষিণ-পশ্চিমে বাংলাদেশ এবং উত্তর-পশ্চিমে ভুটান অবস্থিত। 
উত্তর-পূর্ব পার্বত্য ভূমি কে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
  •  a.পূর্বাঞ্চল 
  •  b.মেঘালয় মালভূমি 

a.পূর্বাঞ্চল:
উত্তর-পূর্ব ভারতের পার্বত্য অংশে ভারত ও মায়ানমার সীমান্তে (মেঘালয় বাদে) বরাবর উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত সমান্তরাল শৈল শ্রেণি একত্রে পূর্বাঞ্চল নামে পরিচিত। 
  • এই পর্বত শ্রেনীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মিশমি পাহাড়, পাটকই , এছাড়া নাগা পাহাড় , শৃঙ্গ সরামতী , উত্তর কাছাড় পাহাড় , মনিপুর পাহাড় , মিজো পাহাড় ও ত্রিপুরা পাহাড় প্রভৃতি। 

b.মেঘালয় মালভূমি:
মেঘালয় প্রদেশে গারো , খাসি, জয়ন্তিয়া ও মিকিরের পাহাড়ি অঞ্চল নিয়ে গঠিত মেঘালয় মালভূমি প্রকৃতপক্ষে দাক্ষিণাত্য মালভূমির বিভিন্ন অংশ। 
  • এই মালভূমির পশ্চিমে অবস্থিত গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নকরেক
  • এর উত্তরে শিলং পাহাড় , উত্তর-পূর্বের পাহাড় মিকির পাহাড়ি অঞ্চল, মধ্যভাগে খাসি ও জয়ন্তিিয়া পাহাড় অবস্থিত। 

মরু অঞ্চলের প্রতিরোধের উপায়

মরু অঞ্চলের প্রতিরোধের উপায়: ১.ভূমিক্ষয় রোধ করা: মরু প্রান্তীয় এলাকায় মাটি ক্ষয় রোধ করতে ঢালু এলাকায় সমোন্নতিরেখা চাষ, বায়ুরোধক দেয়া...