Thursday, June 11, 2020

জোয়ার ভাটার সৃষ্টির কারণ ও প্রভাব

জোয়ার ভাটার সৃষ্টির কারণ ও প্রভাব

প্রতিদিন নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পৃথিবীর সাগর মহাসাগর এর জলরাশির কোন স্থানে ফুলে ওঠা কে জোয়ার এবং কোন স্থানে নিচে নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।  প্রধানত দুটি কারণে পৃথিবীর জোয়ার ভাটা সৃষ্টি হয়। যথা-
1.পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ বল
2.পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বল এর প্রভাব

1.পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ বল: 
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রের নিয়ম অনুসারে মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু পরস্পর পরস্পরকে আকর্ষণ করে। সুতরাং সূর্য ,পৃথিবী ও চাঁদ একে অপরকে আকর্ষণ করে । চাঁদ অপেক্ষা সূর্য প্রায় 260 লক্ষ গুণ ভারী । তাই  চাঁদের তুলনায় সূর্যের আকর্ষণ ক্ষমতা অনেক বেশি। কিন্তু সূর্য পৃথিবী থেকে প্রায় 15 কোটি কিমি দূরে এবং চাঁদ রয়েছে পৃথিবী থেকে মাত্র 3 লক্ষ 84 হাজার কিমি দূরে । সূর্যের তুলনায় চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে থাকায় পৃথিবীর উপর চাঁদের মহাকর্ষ শক্তি সূর্য অপেক্ষা প্রায় 2.2 গুন বেশি কার্যকরী। এই কারণে মূলত চাঁদের আকর্ষণেই জোয়ার সৃষ্টি হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সৃষ্ট জোয়ার মৃদু প্রকৃতির হয়। চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে প্রবল ভরা জোয়ার সৃষ্টি হয়। 

2.পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বল এর প্রভাব :
আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ বল দ্বারা প্রতিটি অনু মহাকর্ষ শক্তির বিপরীত দিকে  বিকর্ষিত হয় । তবে পৃথিবীর যেদিকে চাঁদ থাকে সেদিকে কেন্দ্রাতিগ বল অপেক্ষা মহাকর্ষ বল বেশি প্রবল । কিন্তু  এর ঠিক বিপরীত দিক (প্রতিপাদ স্থানে) চাঁদ থেকে অনেক দূরে থাকায় সেখানে মহাকর্ষ বল অপেক্ষা কেন্দ্রাতিগ বল বেশি প্রবল হয়। ফলের জোয়ার জোয়ার সৃষ্টি হয় । 

উপরোক্ত কারণে পৃথিবীর যে দুটো অংশে জোয়ারের সৃষ্টি হয় তার ঠিক সমকোণে অবস্থিত দুটি স্থান থেকে জল সরে জোয়ারের দিকে চলে যাওয়ায় জলতল নেমে গিয়ে ভাটার সৃষ্টি হয়। 

মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার এবং  গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার যেসব স্থানে সংঘটিত হয়, সেই সকল স্থানে জল সরবরাহ করতে গিয়ে ওই স্থান দুটির মধ্যবর্তী অঞ্চলে জল নেমে যায় । এরূপ জলতল নেমে যাওয়ার ফলে ভাটার সৃষ্টি হয়। 

জোয়ার ভাটা সৃষ্টির অন্যান্য কারণ -
 I. সমুদ্র সৈকতের ঢাল
ii. সমুদ্রের জলস্তরের ওঠানামা স্বাভাবিক সময়
iii.  সমুদ্র জলরাশির উষ্ণতা
IV. সমুদ্র জলের ঘনত্ব । 



জোয়ার ভাটার ফলাফল:
মানবজীবনে সমুদ্র জলের জোয়ার ভাটার ফলাফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই জোয়ার ভাটার প্রত্যক্ষ প্রভাব যেমন আছে তেমনি পরোক্ষভাবে প্রভাব লক্ষ্য করা যায় । যার ফলে কিছু সুবিধা পাওয়া যায়, আবার অসুবিধারও সম্মুখীন হতে হয়। 

জোয়ার ভাটার সুবিধা:

নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির ফলে নৌ চলাচলের সুবিধা:
জোয়ারের সময় নদীর জলের পরিমাণ বেড়ে যায় । বিভিন্ন নদীর খাড়ির মুখ  দিয়ে প্রচুর পরিমাণে জল অভ্যন্তর উপকূলে প্রবেশ করায় নদীর নাব্যতা বেশি হয় এবং নৌ চলাচলের সুবিধা হয়। জোয়ারের পানি জলতল 8 থেকে 10 মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। যেমন- হুগলি নদীর মাধ্যমে কলকাতা বন্দরে জাহাজ চলাচল। 

আবর্জনামুক্ত নদীর গতিপথ:
ভাটার টানে নদী খাত থেকেই জলের সঙ্গে পলি ও আবর্জনা সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। ফলে, নদীর জল পরিষ্কার থাকে এবং নদীখাত গভীর হয়। যেমন- টেমস নদীর গতিপথ। 

বন্দরে সুবিধা:
জোয়ারের জল প্রচুর পরিমাণে নদীখাতে প্রবেশ করায়, ওই খাতের বিস্তার ও গভীরতাও বেড়ে যায়, যা জাহাজ চলাচলের সুবিধা করে। 

বরফ মুক্ত নদীবন্দর গঠন:
জোয়ারের লবণাক্ত জল শীতপ্রধান অঞ্চলের বন্দরগুলোতে সহজে বরফ জমতে দেয় না, বরং বরফ মুক্ত হতে সাহায্য করে। 

জলবিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন:
জোয়ারভাটর শক্তিকে ব্যবহার করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে । যেমন- ভারতের করমন্ডল উপকূল, গুজরাট উপকূল, সুন্দরবন অঞ্চল এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিচ্ছে। 

সামুদ্রিক মৎস্য সমাগমে মৎস্যজীবীদের সুবিধা:
বর্ষায় ডিম পাড়ার জন্য জোয়ারের জলের সঙ্গে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ নদীর মোহনায় চলে এসে সেখানেই মাছের সমাগম ঘটায়, যার ফলে উপকূলের মৎস্য জীবীদের জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে সুবিধা হয়। 

জোয়ার ভাটার অসুবিধা:

জল পানের ও জলসেচের অযোগ্য:
জোয়ারের জল নদী সাধু জলকে লবণাক্ত করে তোলে, যা পান করার ও সেচ কাজ করার ক্ষেত্রে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। 

অগভীর নদীখাত সৃষ্টি:
কম খরস্রোতা নদীর নদীখাতে জোয়ার-ভাটা কম খেলে বলে নদীখাতে পলির ও আবর্জনার সঞ্চয় বেশি হয়, যা নদীখাতকে অগভীর করে তোলে। যেমন- হুগলি নদীর নদীখাত। 

বানডাকা:
অতি শক্তিশালী তীব্র জোয়ার উপকূলবর্তী অঞ্চলকে প্লাবিত করে যাকে বানডাকা বলা হয়। 

সম্পত্তি ও মানবীয় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা:
উপকূলভাগ জোয়ারের জল দ্বারা প্লাবিত হয়ে ওই অঞ্চলের কৃষি জমিগুলি নষ্ট হয়ে যায়। প্রবল জল স্রোতে মানুষের সম্পত্তি, নৌকা বা লঞ্চডুবি হয়ে প্রান সংশয়ের সম্ভাবনা থাকে। 

বদ্বীপ সৃষ্টিতে বাধা দান:
পলি ও আবর্জনা মুক্ত করাই নদীর মোহনায় বদ্বীপ গঠিত হয় না। 



Tuesday, June 9, 2020

জোয়ারভাটা, ভরা কোটাল ও মরা কোটাল, সিজিগি ,বানডাকা, চান্দ্রমাস ,অ্যাপোজি ও পেরিজি, মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ার

জোয়ারভাটা:

সাগর-মহাসাগরের জলরাশি নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট সময় অন্তর এক জায়গায় স্ফীত হয় বা ফুলে ওঠে এবং অন্য জায়গায় অবনমিত হয় বা নেমে যায় । জলরাশি এই স্ফীতি বা ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং অবনমন বা নামাকে ভাটা বলে। 

জোয়ার সৃষ্টি কারণ:
প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার সৃষ্টি হয়। 
1.পৃথিবী নিজের মেরুরেখা চারিদিকে মেরুরেখার চারিদিকে অনবরত আবর্তন করে চলছে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠে একটি বিকর্ষণ শক্তি বা কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয় এবং তার জন্য ভূপৃষ্ঠের জলরাশি বাইরের দিকে বিক্ষিপ্ত হয় । এইভাবে সমুদ্রে জোয়ার সৃষ্টি হয়। 
2.চাঁদ ও সূর্য উভয়ই পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। তাই উভয়ের আকর্ষণই এই পৃথিবীতে জোয়ার হয়। তবে সূর্যের তুলনায় চাঁদ কাছে আছে বলে পৃথিবীর উপর চাঁদের আকর্ষণ বেশী । এর জন্য প্রধানত চাঁদের আকর্ষনে পৃথিবীর জলরাশির ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। 
ভাটা সৃষ্টির কারণ:
প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয়। যথা- 1.পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ বল
2.পৃথিবীর আবর্তন গতিজনিত কেন্দ্রাতিগ বল


জোয়ার ভাটার সময়ের ব্যবধান:
কোন নির্দিষ্ট স্থানে দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হয় 24 ঘণ্টা 48 মিনিট 45 সেকেন্ড এবং মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হয় 12 ঘন্টা 24 মিনিট 22.5 সেকেন্ড । আর এই হিসাব অনুসারে মুখ্য জোয়ারের স্থানে ভাটা সৃষ্টির সময় লাগে 6ঘন্টা 12 মিনিট 11সেকেন্ড পর । 

মুখ্য জোয়ার:
পৃথিবীর আবর্তনের সময় ভূপৃষ্ঠের যে অংশ চাঁদের ঠিক সামনে আসে, সেই জায়গার জলরাশি চাঁদের আকর্ষণে সবচেয়ে বেশি ফুলে ওঠে। তাই সেখানে যে জোয়ার হয় তাকে মুখ্য জোয়ার বলে। 

গৌণ জোয়ার:
পৃথিবীর যে স্থানে মুখ্য জোয়ার হয় ঠিক তার বিপরীত দিকে বা প্রতিবাদ স্থানে পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বল এর প্রভাবে এবং চাঁদের দিকে স্থলভাগের বেশি সরনের জন্য যে জলস্ফীতি বা জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বলে। 

ভরা কটাল ও মরা কটাল:
অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে বলে এই দুই তিথিতে প্রবল জোয়ার হয় , একে ভরা কোটাল বা ভরা জোয়ার বলে। 
আর শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পৃথিবীর অবস্থানের সাপেক্ষে চাঁদ ও সূর্য পরস্পর সমকোণে অবস্থান করে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে বলে এই তিথিতে জোয়ারের প্রাবল্য  কম হয় ।একে বলে মরা কটাল বা মরা জোয়ার। 


সিজিগি:
জ্যোতিষ্কশাস্ত্র অনুযায়ী সিজিগি শব্দের অর্থ যোগবিন্দু । সূর্য ,পৃথিবী ও চাঁদের কেন্দ্রবিন্দু একই সরলরেখায় অবস্থান করলে তাকে সিজিগি বলে। 

অ্যাপোজি পেরিজি :
পৃথিবীকে পরিক্রমণের সময় পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে দূরত্ব যখন সবচেয়ে বেশি হয়, তখন চাঁদের সেই দূরতম অবস্থানকে বলে অ্যাপোজি । আর এই দূরত্ব যখন সবচেয়ে কম হয়, তখন চাঁদের সেই নিকটতম অবস্থানকে বলে পেরিজি। 

বানডাকা:
জোয়ারের সময় স্ফীত সমুদ্রের জল মোহনা দিয়ে বড় বড় ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাসের আকার এই নদী খাতে প্রবেশ করে। ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাসসহ নদীর এই বিপরীতমুখী প্রবাহকে বান বলে । বর্ষাকালের নদীতে যখন বেশি জল থাকে, তখন ভরা কোটালের  বা ভরা জোয়ারের জল খুব বেশি উঁচু হয়ে প্রবল বেগে সশব্দে নদীতে প্রবেশ করে ,একে বলে বানডাকা।

চান্দ্রমাস:
পৃথিবীকে একবার পরিক্রমণ করতে চাঁদের সময় লাগে 27 দিন 8 ঘন্টা । এই সময়কে চান্দ্রমাস বলে। 

জোয়ার ভাটার প্রভাব:
জোয়ার ভাটার অনুকূল প্রভাব গুলি হল -
1.নাব্যতা বৃদ্ধি 
2.নদীতে নৌকা চলাচলে সুবিধা 
3.আবর্জনা গতি গত
4.বিদ্যুৎ উৎপাদন 
5.মৎস্যশিকারের সুবিধা 
6.বরফমুক্ত বন্দর
প্রতিকূল প্রভাব গুলি হল -
1.জলের লবনতা বৃদ্ধি 
2. সম্পত্তি  ও মানুষের ক্ষতি 
3.নৌকা চলাচলে ব্যাঘাত 
4. অগভীর নদীখাত সৃষ্টি



Tuesday, June 2, 2020

পৃথিবীব্যাপী সমুদ্রস্রোতের প্রভাব - Effects of Ocean Currents in the World

পৃথিবীব্যাপী সমুদ্রস্রোতের প্রভাব - Effects of Ocean Currents in the World

জলবায়ু, জীবজগৎ ও মানবজীবনের বিভিন্ন কর্মধারার ওপর সমুদ্রস্রোতের উল্লেখযোগ্য প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। যথা-

জলবায়ুর ওপর প্রভাব:
1. উষ্ণতার ভারসাম্য:
সমুদ্রস্রোত নিরক্ষরেখা থেকে উভয় মেরুর দিকে উত্তাপের স্থানান্তর ঘটিয়ে মহাসমুদ্র তথা বিশ্বব্যাপী উষ্ণতার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই সমুদ্রস্রোতকে মহাসমুদ্রর উষ্ণতার নিয়ন্ত্রক বলা হয়। 


2. উষ্ণতার তারতম্য:
সমুদ্রস্রোত উপকূলীয় অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। উষ্ণ সমুদ্রের প্রভাবে উপকূল অঞ্চলের উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় এবং শীতল স্রোতের প্রভাবে উপকূল অঞ্চলের উষ্ণতা হ্রাস পায়। যেমন- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে নরওয়ের উত্তর পশ্চিম উপকূল বরফ মুক্ত থাকে। শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের প্রভাবে কানাডার কেইন শহরের উষ্ণতা শীতকালে  -21.6°c পর্যন্ত নিচে নেমে যায়। 

3.বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত:
উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু  জলীয় বাষ্প ধারণ করে স্থলভাগের ওপর প্রবাহিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। আবার শীতল স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু অতিরিক্ত শীতলতার কারণে তুষারপাত ঘটায়। যেমন- উষ্ণ উত্তর আটলান্টিক স্রোতের প্রভাবে ইংল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলে বৃষ্টিপাত হয় এবং শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের প্রভাবে ল্যাব্রাডর উপকূলে তুষারপাত হয়। 

4.দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া:
সাধারণত সমুদ্র উপকূলের যেসব অঞ্চলে উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলন হয় বা বিপরীতমুখে পাশাপাশি প্রবাহিিত হয়, সেই সব অঞ্চলে উষ্ণতার পার্থক্যেের জন্য ঘন কুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্জার সৃষ্টি হয়। যেমন- নিউ ফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত ও শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের মিলনের ফলে এরূপ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়়। 

5.মরু জলবায়ু সৃষ্টি:
মরুভূমি সৃষ্টির পেছনে সমুদ্রস্রোতের প্রভাব রয়েছে। ক্রান্তীয় অঞ্চলে মহাদেশ গুলির পশ্চিম উপকূল দিয়ে শীতল স্রোত প্রবাহিত হয় বলে বৃষ্টি তেমন হয় না, যার ফলে পশ্চিমাংশে মরুভূমি সম্প্রসারণ ঘটেছে । 

6.জলবায়ু পরিবর্তন:
পেরু চিলি উপকূলে এল নিনোর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম উপকূলে খরা সৃষ্টি হয় এবং পূর্ব উপকূলে অতিরিক্ত বৃষ্টির প্রভাবে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। লা-নিনার প্রভাবে বিপরীত ঘটনা ঘটে। 


মানুষের অর্থনৈতিক পরিবেশের ওপর প্রভাব:
1.মগ্নচড়া সৃষ্টি ও মৎস্য ক্ষেত্রের বিকাশ:
শীতল স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা হিমোশৈল উষ্ণস্রোত েের সংস্পর্শে গলে যায়।  এই হিমোশৈল গলিত পদার্থ অধঃক্ষিপ্ত হয়ে অগভীর মগ্নচড়ার সৃষ্টি হয় ।যেমন- গ্র্যান্ড ব্যাংক, ডগার্স ব্যাঙ্ক প্রভৃতি। এই মগ্নচড়া অঞ্চল এবং অন্যান্য উষ্ণ ও শীতল স্রোত এর মিলন অঞ্চলে অনুকুল উষ্ণতা কারণে মাছের খাদ্য প্লাংটন প্রচুর পরিমাণে জন্মায় । এর ফলে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক মৎস্য ক্ষেত্রের বিকাশ ঘটেছে । যেমন- জাপান উপকূলের মৎস্য ক্ষেত্র। 

2.জল পরিবহন এর সুবিধা:
সমুদ্র স্রোতের অনুকূলে বাণিজ্যিক জাহাজ গুলি দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারে । তাই পৃথিবীর সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ গুলি সমুদ্র স্রোতকে অনুসরণ করে গড়ে উঠেছে । 
3. বন্দরে কাজকর্মের প্রসার:
শীতপ্রধান অঞ্চলের বন্দর গুলিতে শীতকালে সমুদ্রের জল বরফ হয়ে যাওয়ায় বন্দরে সমস্ত কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায় । কিন্তু যেসব বন্দরের পাশ দিয়ে উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হয় সেগুলি বলতে পারে না। ফলে সারা বছর কাজকর্ম স্বাভাবিক থাকে । যেমন- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে নরওয়ের হেমারফেস্ট বন্দর শীতকালেও বরফ মুক্ত থাকে। 

4. জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি:
শীতল স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা হিমশৈলগুলি জাহাজ চলাচলে বিপদ সৃষ্টি করে। যেমন-1912 সালে টাইটানিক জাহাজ হিমশৈলে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায় । এছাড়া উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলন অঞ্চলে সৃষ্ট ঘন কুয়াশা জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায়। 

সামুদ্রিক জীবের উপর প্রভাব:
সমুদ্রস্রোত সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। প্রবালের বংশবিস্তার, প্লাংকটন এর সমাবেশ , মাছেদের বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সামুদ্রিক জীবের বিকাশ ও বন্টন সমুদ্রস্রোত দ্বারা বহুলাংশে নিয়ন্ত্রিত হয়। 




মরু অঞ্চলের প্রতিরোধের উপায়

মরু অঞ্চলের প্রতিরোধের উপায়: ১.ভূমিক্ষয় রোধ করা: মরু প্রান্তীয় এলাকায় মাটি ক্ষয় রোধ করতে ঢালু এলাকায় সমোন্নতিরেখা চাষ, বায়ুরোধক দেয়া...