জোয়ারভাটা:
সাগর-মহাসাগরের জলরাশি নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট সময় অন্তর এক জায়গায় স্ফীত হয় বা ফুলে ওঠে এবং অন্য জায়গায় অবনমিত হয় বা নেমে যায় । জলরাশি এই স্ফীতি বা ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং অবনমন বা নামাকে ভাটা বলে।
জোয়ার সৃষ্টি কারণ:
প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার সৃষ্টি হয়।
1.পৃথিবী নিজের মেরুরেখা চারিদিকে মেরুরেখার চারিদিকে অনবরত আবর্তন করে চলছে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠে একটি বিকর্ষণ শক্তি বা কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয় এবং তার জন্য ভূপৃষ্ঠের জলরাশি বাইরের দিকে বিক্ষিপ্ত হয় । এইভাবে সমুদ্রে জোয়ার সৃষ্টি হয়।
2.চাঁদ ও সূর্য উভয়ই পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। তাই উভয়ের আকর্ষণই এই পৃথিবীতে জোয়ার হয়। তবে সূর্যের তুলনায় চাঁদ কাছে আছে বলে পৃথিবীর উপর চাঁদের আকর্ষণ বেশী । এর জন্য প্রধানত চাঁদের আকর্ষনে পৃথিবীর জলরাশির ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়।
ভাটা সৃষ্টির কারণ:
প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয়। যথা- 1.পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ বল
2.পৃথিবীর আবর্তন গতিজনিত কেন্দ্রাতিগ বল
জোয়ার ভাটার সময়ের ব্যবধান:
কোন নির্দিষ্ট স্থানে দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হয় 24 ঘণ্টা 48 মিনিট 45 সেকেন্ড এবং মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হয় 12 ঘন্টা 24 মিনিট 22.5 সেকেন্ড । আর এই হিসাব অনুসারে মুখ্য জোয়ারের স্থানে ভাটা সৃষ্টির সময় লাগে 6ঘন্টা 12 মিনিট 11সেকেন্ড পর ।
মুখ্য জোয়ার:
পৃথিবীর আবর্তনের সময় ভূপৃষ্ঠের যে অংশ চাঁদের ঠিক সামনে আসে, সেই জায়গার জলরাশি চাঁদের আকর্ষণে সবচেয়ে বেশি ফুলে ওঠে। তাই সেখানে যে জোয়ার হয় তাকে মুখ্য জোয়ার বলে।
গৌণ জোয়ার:
পৃথিবীর যে স্থানে মুখ্য জোয়ার হয় ঠিক তার বিপরীত দিকে বা প্রতিবাদ স্থানে পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বল এর প্রভাবে এবং চাঁদের দিকে স্থলভাগের বেশি সরনের জন্য যে জলস্ফীতি বা জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বলে।
ভরা কটাল ও মরা কটাল:
অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে বলে এই দুই তিথিতে প্রবল জোয়ার হয় , একে ভরা কোটাল বা ভরা জোয়ার বলে।
আর শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পৃথিবীর অবস্থানের সাপেক্ষে চাঁদ ও সূর্য পরস্পর সমকোণে অবস্থান করে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে বলে এই তিথিতে জোয়ারের প্রাবল্য কম হয় ।একে বলে মরা কটাল বা মরা জোয়ার।
সিজিগি:
জ্যোতিষ্কশাস্ত্র অনুযায়ী সিজিগি শব্দের অর্থ যোগবিন্দু । সূর্য ,পৃথিবী ও চাঁদের কেন্দ্রবিন্দু একই সরলরেখায় অবস্থান করলে তাকে সিজিগি বলে।
অ্যাপোজি পেরিজি :
পৃথিবীকে পরিক্রমণের সময় পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে দূরত্ব যখন সবচেয়ে বেশি হয়, তখন চাঁদের সেই দূরতম অবস্থানকে বলে অ্যাপোজি । আর এই দূরত্ব যখন সবচেয়ে কম হয়, তখন চাঁদের সেই নিকটতম অবস্থানকে বলে পেরিজি।
বানডাকা:
জোয়ারের সময় স্ফীত সমুদ্রের জল মোহনা দিয়ে বড় বড় ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাসের আকার এই নদী খাতে প্রবেশ করে। ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাসসহ নদীর এই বিপরীতমুখী প্রবাহকে বান বলে । বর্ষাকালের নদীতে যখন বেশি জল থাকে, তখন ভরা কোটালের বা ভরা জোয়ারের জল খুব বেশি উঁচু হয়ে প্রবল বেগে সশব্দে নদীতে প্রবেশ করে ,একে বলে বানডাকা।
চান্দ্রমাস:
পৃথিবীকে একবার পরিক্রমণ করতে চাঁদের সময় লাগে 27 দিন 8 ঘন্টা । এই সময়কে চান্দ্রমাস বলে।
জোয়ার ভাটার প্রভাব:
জোয়ার ভাটার অনুকূল প্রভাব গুলি হল -
1.নাব্যতা বৃদ্ধি
2.নদীতে নৌকা চলাচলে সুবিধা
3.আবর্জনা গতি গত
4.বিদ্যুৎ উৎপাদন
5.মৎস্যশিকারের সুবিধা
6.বরফমুক্ত বন্দর
প্রতিকূল প্রভাব গুলি হল -
1.জলের লবনতা বৃদ্ধি
2. সম্পত্তি ও মানুষের ক্ষতি
3.নৌকা চলাচলে ব্যাঘাত
4. অগভীর নদীখাত সৃষ্টি
No comments:
Post a Comment