উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল :
অবস্থান
দাক্ষিণাত্য মালভূমির পূর্বে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে আরব সাগরের উপকূল বরাবর বৃস্তিত সংকীর্ণ সমভূমি হল উপকূলীয় সমভূমি এই অঞ্চলের মোট দৈর্ঘ্য 100 কিমি উৎপত্তি ভূ-প্রাকৃতিক তারতম্য অনুসারে উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল কি দুটি ভাগে ভাগ করা যায় যথা-
- i.পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি
- ii.পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি
i.পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি :
বাংলাদেশের পশ্চিম সীমা থেকে কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত প্রায় 1500 কিমি বিস্তৃত সমভূমিকে উপকূলীয় সমভূমি বলে।
এই সমভূমি অঞ্চল কে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় । যথা-
- উত্তর-সরকার উপকূল ( উড়িষ্যা উপকূল ও অন্ধ্র উপকূল)
- করমন্ডল উপকূল (তামিলনাড়ু উপকূল)
উত্তর সরকার উপকূল:
উড়িষ্যার সুবর্ণরেখা নদীর মোহনা থেকে দক্ষিনে কৃষ্ণা নদী ব-দ্বীপের পূর্বভাগের বৃস্তিত সমভূমিকে উত্তর সরকার উপকূল বলে। এই উপকূলীয় সমভূমি প্রায় 400 কিমি দীর্ঘ ও 80 কিমি প্রশস্ত। উত্তর সরকার উপকূল এর উত্তরাংশ উড়িষ্যা উপকূল এবং দক্ষিণাংশ অন্ধ্র উপকূল নামে পরিচিত।
করমন্ডল উপকূল:
কৃষ্ণানদীর বদ্বীপ থেকে কন্যা কুমারিকা পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলকে করমন্ডল উপকূল বলে। পুলিকট উপহ্রদ থেকে কন্যাকুমারিকা পযর্ন্ত বিস্তৃত উপকূলকে তামিলনাড়ু উপকূল বলে। এই উপকূলে অবস্থিত বালিয়াড়ি উচ্চতা 35 থেকে 65 মিটার । একে থেড়়িস বলে।
ii.পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি:
উত্তরের পাকিস্তানের সীমানাকে দক্ষিণের প্রায় কুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত বিস্তৃত পশ্চিম উপকূলের দৈর্ঘ্য প্রায় ষোল সেমি এবং প্রস্থ প্রায় 15 থেকে 18 কিমি এই উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল কে ছয় ভাগে ভাগ করা যায় । যথা-
- কচ্ছ উপদ্বীপ
- কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ
- গুজরাট সমভূমি
- কঙ্কন উপকূল
- কর্ণাটক উপকূল
- মালাবার উপকূল
কচ্ছ উপদ্বীপ:
গুজরাট উপকূলের উত্তরাংশে কচ্ছ উপদ্বীপ অবস্থিত । কচ্ছ শব্দের অর্থ জলাময় দেশ । কচ্ছ এর উত্তরে রয়েছে বৃহৎ রান এবং দক্ষিণে ক্ষুদ্র রান।
কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ:
গুজরাট উপকূলের দক্ষিণাংশে অবস্থিত লাভা গঠিত মালভূমি কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ নামে পরিচিত ।গোরক্ষনাথ এখানকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
গুজরাট সমভূমি:
কাথিয়াবাড় উপদ্বীপের দক্ষিনে অবস্থিত সবরমতী,মাহি, নর্মদা, তাপ্তি প্রভৃতি নদীর পলি সঞ্চয়ের ফলে গুজরাট সমভূমি সংগঠিত হয়েছে।
কঙ্কন উপকূল:
উত্তর সুরাট থেকে দক্ষিনে গোয়া পর্যন্ত প্রসারিত 45 থেকে 75 কিমি প্রশস্ত উপকূল কঙ্কন উপকূল নামে পরিচিত।
কর্ণাটক উপকূল:
কর্ণাটক রাজ্যের প্রায় 25 কিমি দীর্ঘ কর্ণাটক উপকূল বিস্তৃত।
মালাবার উপকূল:
ম্যাঙ্গালোর থেকে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূল হল মালাবার উপকূল ।এই উপকূলে ভেম্বানাদ, অষ্টমুদি কয়াল অবস্থিত।
5.দ্বীপপুঞ্জ:
অনেকগুলি ছোট ছোট দ্বীপকে একসঙ্গে দ্বীপপুঞ্জ বলা হয় । ভারতের দুটি দ্বীপপুঞ্জ রয়েছে । যথা-
- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ
- লাক্ষা দ্বীপপুঞ্জ
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ:
- বঙ্গোপসাগরের 265 টি ছোট বড় দ্বীপ নিয়ে ভারতের বৃহত্তম দ্বীপপুঞ্জ আন্দামান ও নিকোবর গড়ে উঠেছে ।
- এর মোট আয়তন প্রায় 8249 বর্গ কিমি।
- এই দ্বীপপুঞ্জ উত্তর-দক্ষিণে প্রায় 170 কিমি দীর্ঘ এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় 100 কোটি কিমি প্রশস্ত।
- এই দ্বীপপুঞ্জ প্রকৃতপক্ষে আগ্নেয় দ্বীপের সমষ্টি তবে নিকোবর দ্বীপের কিছু অংশ প্রবাল দ্বারা গঠিত।
- স্যাডল পিক( 737 মিটার )এখানকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
- এই দ্বীপপুঞ্জের ব্যারেন একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি এবং নারকোন্ডাম একটি মৃত আগ্নেয়গিরি।
- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ 10 ডিগ্রি চ্যানেল দ্বারা বিচ্ছিন্ন।
- গ্রেট নিকোবর এর দক্ষিণতম বিন্দু ইন্দিরা পয়েন্ট ভারতের দক্ষিণতম স্থলবিন্দু।
লাক্ষা দ্বীপপুঞ্জ:
- আরব সাগরের বুকে 36 টি ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে লাক্ষাদ্বীপ গড়ে উঠেছে ।
- এর আয়তন প্রায় 32 বর্গ কিমি।
- এই দ্বীপপুঞ্জের সব দ্বীপ ই প্রবাল কীটের দেহাবশেষ জমে সৃষ্ট প্রবাল দ্বীপ।
- দ্বীপগুলির কোন স্থানই সমুদ্রতলের 5 মিটারের বেশী উচু নয়।
- দ্বীপ গুলির মধ্যে মিনিকয়, আমিনদিভি, লাক্ষাদ্বীপ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- মিনিকয় খানকার সবচেয়ে বড় দ্বীপ।
No comments:
Post a Comment