Saturday, July 4, 2020

মহাবিশ্ব বা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড- Universe (নীহারিকা,ছায়াপথ,নক্ষত্র,গ্রহ,উপগ্রহ,উল্কা, ধূমকেতু )

মহাবিশ্ব বা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড- Universe 

আমারা রাতের আকাশে যে তাঁরা দেখি আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগেও মানুষ সূর্য, তারা, উল্কা, ছায়াপথ, ধূমকেতু ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে তাদের সম্বন্ধে জানার চেষ্টা করতো । সেই সময় আজকের মত বিজ্ঞান এত উন্নত ছিলনা । ঘড়ি, ক্যালেন্ডার, কম্পাসও ছিলনা । চাঁদ ও সূর্যের চলাচল দেখে দিন, দিক, মাস, সময়, বছর গণনা করা হত । সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মোটামুটি উপরের দিকে ১০০০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত যে শূন্যস্থান আছে তাকে আকাশ বলা হয় । পৃথিবী ছাড়িয়ে রাতের আকাশে তাকালে যতদূর দেখা যায় সেই বিশাল ফাঁকা শূন্যস্থান কে মহাকাশ বলে ।


মহাবিশ্ব  : 

মহাবিশ্ব সৃষ্টি নিয়ে বহু মতভেদ আছে । আধুনিক মত অনুসারে মহাবিশ্বের সমস্ত পদার্থ একটি বালির কণার থেকেও ছোটো অবস্থায় ছিল । প্রায় 1400 কোটি বছর আগে প্রচুর তাপ ও শক্তি নিয়ে এর প্রসারণ শুরু হয় । সেই সঙ্গে প্রচুর গ্যাসের মহাজাগতিক মেঘ ও ধূলিকণা তৈরি হয় । কোটি কোটি বছর ধরে এই গ্যাস আর মেঘ থেকে তৈরি হয় নীহারিকা,ছায়াপথ, গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, উল্কা, ধূমকেতু  ইত্যাদি । মহাকাশের পরিসীমা ঠিক কতদূর সেটা মানুষের কল্পনার বাইরে । অর্থাৎ আমরা পৃথিবীর মানুষ মহাবিশ্ব সম্বন্ধে খুব সামান্যই জানতে পেরেছি। 

মহাকাশে রয়েছে বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তু ।

 এগুলি হল - গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, উল্কা, ধূমকেতু নীহারিকা ইত্যাদি । এখন আমরা এগুলি সম্বন্ধে কিছু কথা জেনে নেব ।

1.নীহারিকা 

 মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় অসংখ্য ধূলিকণা গ্যাসের মহাজাগতিক মেঘ তৈরি হয় তা হল নীহারিকা । মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রায় ১০ লক্ষ বছর পর গ্যাসীয় পদার্থগুলি জমাট বেঁধে প্রচণ্ড গতিতে একে অপরের সাথে মিলে জ্বলন্ত নক্ষত্রের জন্ম দেয় । এই নীহারিকা থেকে নক্ষত্রদের জন্ম হয়েছে ।

2.ছায়াপথ – 

মহাকাশের এক এক জায়গায় লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি তারা ও গ্যাসীয় বস্তু মিলে একটি বিশাল তারা জগত গড়ে তোলে, একে ছায়াপথ বলে । ছায়াপথ গুলি ডিম্বাকার, প্যাঁচালো ইত্যাদি নানা রকম হয় । খালি চোখে আমরা যে তারা দেখি সেগুলি আকাশগঙ্গা ছায়াপথের তারা । প্রায় ১০ হাজার কোটি নক্ষত্র, ধূলিকণা, গ্যাস মিলে আকাশগঙ্গা একটি বিরাট প্যাঁচানো ছায়াপথ । সূর্য, পৃথিবী ও অন্য গ্রহগুলি এই আকাশগঙ্গা ছায়াপথে রয়েছে ।


2.নক্ষত্র ও নক্ষত্রমণ্ডল –

যে সব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো ও উত্তাপ আছে তাদের নক্ষত্র বলে । সূর্য নক্ষত্র আছে আমাদের থেকে ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে আছে । তারপর রয়েছে ৪১ লক্ষ কোটি কিলোমিটার দূরে নক্ষত্র প্রক্সি-মা সেন্তাউরি । জ্যোতির্বিজ্ঞানিরা মহাবিশ্বের বিভিন্ন নক্ষত্র ‘আলোকবর্ষ’ একক দিয়ে দূরত্ব পরিমাণ করেন । ১ সেকেন্ডে আলোর গতি প্রায় ৩০০,০০০ কিলোমিটার । এই হিসাবে আলো এক বছরে যত দূরত্ব অতিক্রম করে সেটাই হল আলোকবর্ষ । মনেকরা হয় যে নক্ষত্র গুলি নীহারিকা থেকে সৃষ্টি হয়েছে । নক্ষত্রদের রং দেখে আমরা সেই নক্ষত্র কতটা উত্তপ্ত অনুমান করতে পারি । লাল রঙের নক্ষত্রের উষ্ণতা সবথেকে কম, মাঝারি হলুদ নক্ষত্রের উষ্ণতা একটু বেশি । নীল নক্ষত্রের উষ্ণতা আরও একটু বেশি । সাদা রঙের নক্ষত্রের উষ্ণতা সবথেকে বেশি । অনেক নক্ষত্র কাছাকাছি অবস্থান করে, তাদের কাল্পনিক রেখা দিয়ে যোগ করলে বিভিন্ন আকৃতি গঠিত হয় । এদেরকে বলা হয় নক্ষত্রমণ্ডল । উত্তর আকাশে সাতটি নক্ষত্রের সমষ্টিকে সপ্তর্ষিমণ্ডল বলে । তাঁদের নাম প্রাচীনকালের সাত জন ঋষির নাম অনুসারে রাখা হয়েছে । এদের দেখতে অনেকটা ? চিহ্নের মত হয় । আবার ইংরেজি M অক্ষরের মত ক্যাসিওপিয়া । ক্রস চিহ্নের মত হল বকমণ্ডল । কালপুরুষ নক্ষত্র মণ্ডলকে পুরাকালের একজন বীর শিকারি হিসাবে কল্পনা করা হয়েছে । ধ্রুব তারাকে সারাবছর উত্তর আকাশে একই স্থানে দেখা যায় ।

3.গ্রহ ও উপগ্রহ – 

যে সমস্ত জ্যোতিষ্কের নিজের আলো ও উত্তাপ নেই, যারা নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হয় তাদের গ্রহ বলে । আবার গ্রহদের চারিদিকে যারা ঘোরে তাদের উপগ্রহ বলে । উপগ্রহরা আলো নক্ষত্রদের কাছ থেকে পায় । সূর্যের চারিদিকে আবর্তন করে ৮ টি গ্রহ । এগুলি হল – বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, উরেনাস ও নেপচুন । চাঁদ হল পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ । চাঁদ তার আবর্তন ও পরিক্রমণ শেষ করে ২৭ দিন ৮ ঘণ্টায় । এছাড়াও অন্য গ্রহদের উপগ্রহ আছে । আগে প্লুটোকে গ্রহ হিসাবে ধরা হলেও এখন তাকে বামন গ্রহের তালিকায় রাখা হয়েছে ।

4.গ্রহাণুপুঞ্জ – 

গ্রহের মত খুব ছোটো ছোটো জ্যোতিষ্ককে গ্রহাণুপুঞ্জ বলা হয় । এরাও এদের নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যের চারিদিকে ঘোরে । মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার গ্রহাণুপুঞ্জ রয়েছে । সৌরজগতের সবথেকে বড়ো গ্রহাণুপুঞ্জ হল সেরেস ।

5.ধূমকেতু – 

ধূমকেতু হল মহাকাশের এক প্রকার জ্যোতিষ্ক । এটি দেখতে দীর্ঘ লেজ বিশিষ্ট বা অনেকটা ঝাঁটার মত হয় । ধূমকেতুর মাথার দিকটা উজ্জ্বল আর লেজের দিকটা হয় বাস্পময় । সূর্যের কাছাকাছি এলে ধূমকেতুর ধুলো গ্যাস জ্বলতে আরম্ভ করে । একে অনেক বছর পর পর দেখা যায় । পৃথিবী থেকে হ্যালির ধূমকেতু ৭৬ বছর পর দেখা যায় । শেষ বার দেখা গেছে ১৯৮৬ সালে, আবার দেখা যাবে ২০৬২ সালে ।

6.উল্কা – 

আমরা মেঘহীন রাতের আকাশে হঠাৎ আলোর পিণ্ড নীচে নেমে আসতে দেখি । একে বলা হয় তারা খসা বা উল্কাপাত । ধূমকেতু, গ্রহাণুপুঞ্জের বা কোনও নক্ষত্রের ভাঙ্গা টুকরো পৃথিবীর আকর্ষণে পৃথিবীর দিকে প্রবল গতিবেগে ছুতে আসে । বাতাসের সাথে ঘষা লেগে এরা জ্বলতে শুরু করে । বেশিরভাগ উল্কা বাতাসে পুড়ে যায় ।  আবার কখনো বড়ো উল্কার অংশ পৃথিবীর বুকে আছরে পড়তে পারে ।




No comments:

Post a Comment

মরু অঞ্চলের প্রতিরোধের উপায়

মরু অঞ্চলের প্রতিরোধের উপায়: ১.ভূমিক্ষয় রোধ করা: মরু প্রান্তীয় এলাকায় মাটি ক্ষয় রোধ করতে ঢালু এলাকায় সমোন্নতিরেখা চাষ, বায়ুরোধক দেয়া...