Sunday, July 26, 2020

পৃথিবীর ভূ-অভ্যন্তরীণ গঠন - Structure of Earth


পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত স্তরগুলিকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় , যথা-

1. ভূত্বক ( Crust )

2. গুরুমণ্ডল ( Mantle )

3. কেন্দ্রমণ্ডল ( Core )

 ভূগর্ভের এই বিভিন্ন স্তরগুলির প্রকৃতি , উয়তা , ঘনত্ব ও চাপ ভূকম্প তরঙ্গের গতিবেগের পার্থক্যের মাধ্যমে বােঝা যায় ।



ভূত্বক ( Crust )

সংজ্ঞা : সবার ওপরে অবস্থিত হালকা ও কঠিন পদার্থে গঠিত যে স্তরটি পৃথিবীকে শক্ত আবরণে মুড়ে রেখেছে , তাকে ভূত্বক বা ক্রাস্ট বলে । ।

বৈশিষ্ট্য :
1) গভীরতা : মহাদেশের নীচে গড়ে 60 কিমি এবং মহাসাগরের নীচে গড়ে 5 কিমি গভীরতা পর্যন্ত ভূত্বক বিস্তৃত । এর গড় গভীরতা প্রায় 30 কিমি ।

2) উপাদান : ভূত্বকের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে অক্সিজেন ( O2 ) । এ ছাড়া সিলিকন ( Si ) , ম্যাগনেশিয়াম ( Mg ) , অ্যালুমিনিয়াম ( AI ) প্রভৃতি উপাদানে ভূত্বক গঠিত ।

3) উন্নতা বা তাপমাত্রা : পৃথিবী তাপ বিকিরণ করে গ্যাসীয় অবস্থা থেকে ক্রমশ শীতল হয়ে তরল হয় । তরল অবস্থা থেকে ক্রমশ শীতল হয়ে পৃথিবীর উপরিভাগের এই কঠিন আবরণটি সৃষ্টি হয় । ভূ - অভ্যন্তরের তিনটি স্তরের মধ্যে এই স্তরটির উন্নতা সবচেয়ে কম । ভূত্বকের গড় তাপমাত্রা 15°C ।

4) ঘনত্ব : ভূত্বক সবচেয়ে হালকা । এর ঘনত্ব 2 . 2 - 2 . 9 গ্রাম / ঘনসেমি ।

5)  শিলা : ভূত্বক আগ্নেয় , পাললিক ও রূপান্তরিত এই তিন প্রকার শিলা দিয়ে গঠিত । এই শিলা নানা খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ । ভূত্বকের একেবারে ওপরে আছে মাটি ।

6) উপস্তর : ভূত্বকের দুটি অংশ । যথা —
  • A) সিয়াল : সিলিকন ( Si ) ও অ্যালুমিনিয়াম ( AI ) দ্বারা গঠিত ওপরের অপেক্ষাকৃত হালকা স্তরটি হল সিয়াল ( Si + A = Sial ) বা মহাদেশীয় ভূত্বক । এটি গ্রানাইট জাতীয় শিলায় গঠিত এবং মহাসাগরের নীচে অনুপস্থিত ।
  • B) সিমা : সিলিকন ( Si ) ও ম্যাগনেশিয়াম ( Mg ) দ্বারা গঠিত অপেক্ষাকৃত ভারী স্তরটি হল সিমা ( Si + Ma = Sima ) বা মহাসাগরীয় ভূত্বক । এটি ব্যাসল্ট জাতীয় শিলায় গঠিত এবং সিয়ালের নীচে অবস্থিত ।

7) বিযুক্তিরেখা : ভূত্বকের সিয়াল ও সিমার মাঝে রয়েছে । কনরাড বিযুক্তিরেখা এবং ভূত্বককে গুরুমণ্ডল থেকে পৃথক করেছে মােহােরাভিসিক বিষক্তিরেখা ।


গুরুমণ্ডল(Mantle)

সংজ্ঞা : ভূত্বকের নীচ থেকে পৃথিবীর অভ্যন্তরে কেন্দ্রমণ্ডলের ঊর্ধ্বভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় একই ঘনত্বযুক্ত স্তরকে গুরুমণ্ডল বা ম্যান্টেল বলে ।

বৈশিষ্ট্য : 1) গভীরতা : ভূত্বকের নীচ থেকে প্রায় 2 , 900 কিমি গভীরতা পর্যন্ত গুরুমণ্ডল বিস্তৃত ।

2) উপাদান : এই স্তরের প্রধান উপাদান লােহা ( Fe ) , নিকেল ( Ni ) , ক্রোমিয়াম ( Cr ) , ম্যাগনেশিয়াম ( Mg ) ও সিলিকন ( Si ) ।

3)  উম্নতা : এই স্তরের উয়তা 2000°c - 3000°C । •

4) ঘনত্ব : এখানে পদার্থের ঘনত্ব 3 . 4 – 5 . 6 গ্রাম / ঘনসেমি ।

5) উপত্তর : গুরুমণ্ডলের দুটি স্তর । যথা-

  • বহিঃগুরুমণ্ডল : গুরুমণ্ডলের 30 - 700 কিমি পর্যন্ত অংশে ক্রোমিয়াম ( Cr ) , লােহা ( Fe ) , সিলিকন ( Si ) ও ম্যাগনেশিয়ামের ( Mg ) প্রাধান্য দেখা যায় বলে একে ক্রোফেসিমা ( Crofesima ) বলে ।
  • অন্তঃগুরুমণ্ডল : 700 – 2 , 900 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত অংশে নিকেল ( Ni ) , লােহা ( Fe ) , সিলিকন ( Si ) ও ম্যাগনেশিয়ামের ( Mg ) আধিক্যের জন্য একে নিফেসিমা ( Nifesima ) বলে ।

6) বিযুক্তিরেখা : গুরুমণ্ডল মােহােরাভিসিক বিযুক্তিরেখা দ্বারা ভূত্বক থেকে এবং গুটেনবার্গ বিযুক্তিরেখা দ্বারা কেন্দ্রমণ্ডল থেকে বিচ্ছিন্ন । আর বহিঃগুরুমণ্ডল ও অন্তঃগুরুমণ্ডলের সঙ্গে রয়েছে রেপিত্তি বিযুক্তিরেখা ।

কেন্দ্রমণ্ডল ( Core )

সংজ্ঞা : গুরুমণ্ডলের নীচে এবং পৃথিবীর কেন্দ্রের চারদিকে বেষ্টনকারী সর্বাধিক ঘনত্বযুক্ত স্তরকে কেন্দ্রমণ্ডল বা কোর বলে ।
বৈশিষ্ট্য :
1 ) গভীরতা : গুরুমণ্ডলের নীচে 2 , 900 কিমি থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র 6 , 370 কিমি গভীরতা পর্যন্ত কেন্দ্রমণ্ডল বিস্তৃত । অর্থাৎ , এই স্তরটি প্রায় 3 , 470 কিমি পুরু ।
2 ) উপাদান : এই স্তর অত্যন্ত ভারী নিকেল ( Ni ) ও লােহা । ( Fe ) দিয়ে গঠিত বলে একে নিফে ( Nife ) বলে ।

3 ) উষ্ণতা : এই স্তরের গড় উষ্ণতা প্রায় 5000°C ।

4 ) ঘনত্ব : এই স্তরের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি । গড় ঘনত্ব প্রায় 9 . 1 - 13 . 1 গ্রাম / ঘনসেমি ।

5 ) উপস্তর : বিজ্ঞানীরা কেন্দ্রমণ্ডলকে দুটি অংশে ভাগ । করেছেন ।

  • বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল : 2 , 900 – 5 , 100 কিমি গভীরতায় রয়েছে বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল । এর চাপ , তাপ ও ঘনত্ব অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের তুলনায় কম হওয়ায় এখানে পদার্থ অর্ধকঠিন অবস্থায় আছে ।
  • অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল : পৃথিবীর কেন্দ্রের চারদিকে বেষ্টন । করে রয়েছে অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল । এর গভীরতা 5 , 100 – 6 , 370 তরের চাপ , তাপ ও ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি । অত্যধিক চাপে পদার্থগুলি এখানে কঠিন অবস্থায় আছে ।

6 ) বিযুক্তিরেখা : গুটেনবার্গ বিযুক্তিরেখা দ্বারা কেন্দ্রমণ্ডল গুরুমণ্ডল থেকে আলাদা হয়েছে । বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল ও অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের মাঝে রয়েছে লেহম্যান বিযুক্তিরেখা ।




No comments:

Post a Comment

মরু অঞ্চলের প্রতিরোধের উপায়

মরু অঞ্চলের প্রতিরোধের উপায়: ১.ভূমিক্ষয় রোধ করা: মরু প্রান্তীয় এলাকায় মাটি ক্ষয় রোধ করতে ঢালু এলাকায় সমোন্নতিরেখা চাষ, বায়ুরোধক দেয়া...