Thursday, September 10, 2020

নদী-River

নদী(River):
যে  স্বাভাবিক জলধারা তুষারগলা জল বা বৃষ্টির জলে পুষ্ট হয়ে বা প্রস্রবণ থেকে উৎপন্ন হয়ে ভূমির ঢাল অনুসারে প্রবাহিত হয় সাগর, হ্রদ বা অন্য জলধারার সঙ্গে মিলিত হয় তাকে নদী বলে। 
নদী অববাহিকা(River Basin):
কোন সুবিস্তীর্ণ অঞ্চলের প্রধান নদী, শাখানদী, উপনদী, প্রশাখা নদী যে অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে নদী অববাহিকা বলে। 
জলবিভাজিকা(Interfluves):
যে উচ্চভূমি পাশাপাশি অবস্থিত দুই বা ততোধিক নদী অববাহিকাকে পৃথক করে, তাকে বলে জলবিভাজিকা।হিমালয়, বিন্ধ্্য , সাতপুরা হলো ভারতের গুরুত্বপূর্ণ জলবিভাজিকা। 

নদীর বিভিন্ন গতি:
ভূমির ঢাল, জলের পরিমাণ এবং প্রবাহের বিভিন্নতা অনুযায়ী নদীর গতিপথ বা প্রবাহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 
1.উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহ
2.মধ্যবর্তী বা সমভূমি প্রবাহ 
3.নিম্নগতি বা  বদ্বীপ প্রবাহ

1.উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহ:
উৎস থেকে নদী যতদূর পর্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে নদীর উচ্চগতির বা পার্বত্য প্রবাহ বলে। 
যেমন- গোমুখ থেকে হরিদ্দার পর্যন্ত গঙ্গার উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহ দেখা যায়। 
বৈশিষ্ট্য:
1.উচ্চগতিতে ভূমির ঢাল বেশি থাকে বলে নদী পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা  নিম্নক্ষয় বা নদীর তলদেশে ক্ষয় হয় বেশি হয়। 2.উচ্চগতিতে নদীতে বোঝা কম থাকে এবং নদী ক্ষয়িত পদার্থ বহনও করে। 
3.উচ্চগতিতে নদীর গুলি খরস্রোতা হয় বলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়ক হলেও নৌ-পরিবহনের পক্ষে অনুপযুক্ত। 
সৃষ্ট ভূমিরূপ:
এই গতিতে নদী 'I' ও 'V' আকৃতির উপত্যকা, জলপ্রপাত, গিরিখাত, মন্থকূপ প্রভৃতি ভূমিরূপ সৃষ্টি করে। 
2.মধ্যবর্তী বা সমভূমি প্রবাহ:
উচ্চগতির পরবর্তী ক্ষেত্রে নদী যখন সমভূমিতে নেমে আসে তখন ঢালের পরিবর্তনের কারণে নদীর গতিবেগ কমে যায়, নদীর এই গতিপ্রবাহকে মধ্যগতি বা সমভূমি প্রবাহ বলে। 
যেমন- হরিদ্দার থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পর্যন্ত গঙ্গানদীর মধ্যগতি বা সমভূমি প্রবাহ। এই প্রবাহপথ হল 900 কিমি। 
বৈশিষ্ট্য:
1.নদী সমভূমিতে নেমে আসে বলে ভূমির ঢাল হঠাৎ করে অনেকটা কমে যায়, ফলে নদীর গতিবেগ হ্রাস পায়। 
2.এই সময় নদী নিম্নক্ষয় অপেক্ষা পার্শ্বক্ষয় বেশি করে, তবে এই গতিতে নদীর প্রধান কাজ বহন। 
3.মধ্যগতিতে প্রধান নদীতে অনেক উপনদী এসে মিলিত হয় বলে জলের পরিমাণ ও নদীবাহিত বোঝার পরিমাণ দুই-ই বৃদ্ধি পায়। 
4.নদী এই সময় জলসেচ ও নৌপরিবহনে সাহায্য করে থাকে। 
সৃষ্ট ভূমিরূপ:
এই গতিতে নদী মিয়েন্ডার, বালুচর, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ, চওড়া ও অগভীর নদী উপত্যকা প্রভৃতি ভূমিরূপ সৃষ্টি করে। 
3.নিম্নগতি বা  বদ্বীপ প্রবাহ:
মধ্যগতির পরবর্তীতে নদী যখন সমভূমির মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে ক্ষয়ের নিম্নসীমার কাছে চলে আসে এবং গতিবেগ ক্রমশ মন্থর হয়, নদীর সেই প্রবাহকে নিম্নগতি বা বদ্বীপ প্রবাহ বলে। 
যেমন- মুর্শিদাবাদ থেকে মোহনা পর্যন্ত প্রায় 250 কিমি গঙ্গা নদীর নিম্ন গতি বা বদ্বীপ প্রবাহ। 
বৈশিষ্ট্য:
1.এ পর্যায়ে ভূমির ঢাল প্রায়ই থাকে না বলে নদী খুবই ধীর গতিসম্পন্ন হয়। 
2.নদী এই সময় শুধু বহন করে, তবে বোঝার পরিমাণ খুব বেশি থাকে বলে প্রধান কাজ সঞ্চয় বা অবক্ষেপণ। 
3.নদী সূক্ষ্ম পলি, বালি, কাদা সঞ্চয় করে নদী মধ্যস্থ চড়া বা বদ্বীপ গঠন করে। 
4.নদীখাত খুবই অগভীর ও চওড়া হয়। 
5.নদী এই সময় জলসেচ ও নৌপরিবহনে সহায়ক হয়। 
সৃষ্ট ভূমিরূপ:
নিম্নগতিতে সঞ্চয়ের মাধ্যমে নদী বিস্তৃত প্লাবনভূমি, স্বাভাবিক বাঁধ, অসংখ্য বদ্বীপ প্রভৃতি গড়ে তোলে। 

নদীর উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত তার দীর্ঘ গতিপথে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে। নদীর কাজ প্রধানত তিন ধরনের, যথা- ক্ষয়, বহন ও অবক্ষেপণ। নদীর এই কাজগুলি নির্ভর করে নদীর শক্তির ওপর, যা নির্ভর করে নদীর জলের আয়তন ও পরিমাণ, গতিপথের ঢাল, জলপ্রবাহের গতি এবং বাহিত বস্তুভরের উপর। এইসব অবস্থান নদীর গতিবেগ এর তারতম্য ঘটায় এবং বিভিন্ন কাজকে প্রভাবিত করে। 

নদীর জলপ্রবাহ পরিমাপের একক হল- কিউসেক বা কিউমেক। কিউসেক হলো কিউবিক ফুট/সেকেন্ড এবং কিউমেক হলো কিউবিক মিটার/সেকেন্ড। 

নদীখাতের ক্ষয় ও পরিবহনের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপকে ক্ষয়জাত ভূমিরূপ বলে। নদীর ক্ষয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ সমূহ প্রধানত নদীর উচ্চ গতিতে পরিলক্ষিত হয়। 
যেমন- Vআকৃতির উপত্যকা, গিরিখাত, ক্যানিয়ন, জলপ্রপাত ইত্যাদি। 
ভূমির ঢাল কমে গেলে নদীর মধ্যগতি ও নিম্নগতিতে নদীবাহিত পলি, কাদা, নূরী  প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ গড়ে তোলে একে সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ বলে। 
যেমন- মিয়েন্ডার, পলল ব্যজনী, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ, বদ্বীপ ইত্যাদি। 

No comments:

Post a Comment

মরু অঞ্চলের প্রতিরোধের উপায়

মরু অঞ্চলের প্রতিরোধের উপায়: ১.ভূমিক্ষয় রোধ করা: মরু প্রান্তীয় এলাকায় মাটি ক্ষয় রোধ করতে ঢালু এলাকায় সমোন্নতিরেখা চাষ, বায়ুরোধক দেয়া...