Wednesday, April 29, 2020

ভারতের ভূপ্রকৃতি

বৈচিত্র্যময় ভারতবর্ষের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য ভূ-প্রকৃতিগত বিচিত্রতা । উত্তরে হিমালয় পর্বত থেকে দক্ষিনে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত বিস্তৃত। ভূভাগের কোথাও গিরিরাজ পর্বতশ্রেণী , কোথাও সমভূমি , আবার কোথাও মালভূমি । এই ভূবৈচিত্র্য অনুসারে ভারতকে পাঁচটি প্রধান ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগ ভাগ করা যায় যথা- 

  • 1.উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল 
  • 2.উত্তরের সমভূমি অঞ্চল 
  • 3.উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল 
  • 4.উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল 
  • 5.দ্বীপপুঞ্জ

ভারতের ভূপ্রকৃতি
 ভারতের ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগ



1. উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল:

অবস্থান:
ভারতের একবারে উত্তরে অবস্থিত পার্বত্য অঞ্চল উত্তর-পশ্চিমে জম্বু কাশ্মীর ( নাঙ্গা পর্বত) থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বে অরুণাচল প্রদেশ (নামচাবারোয়া) পর্যন্ত ধনুক বা আধখানা চাঁদের মতো অবস্থান করছে। 
পর্বতশ্রেণী:
ভূপ্রকৃতির বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভারতের পার্বত্য অঞ্চলটিকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় যথা- 
  • i.হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল 
  • ii..উত্তর-পূর্ব ভারতের পার্বত্যভূমি বা পূর্বাঞ্চল
i.হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল:
পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত শ্রেণী হলো হিমালয় হিমালয় কথার অর্থ বরফের গৃহ হিমালয়ের উত্তর থেকে দক্ষিনে চারটি সমান্তরাল পর্বতশ্রেণী দেখা যায়। যথা-
  • a.ট্র্যান্স বা টেথিস হিমালয় 
  • b.হিমাদ্রি হিমালয়
  • c.হিমাচল হিমালয় 
  • d. শিবালিক হিমালয়

a.ট্র্যান্স বা টেথিস হিমালয় :
হিমালয় চারটি পর্বত শ্রেনীর মধ্যে সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত হল ট্র্যান্স বা টেথিস হিমালয় । ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশে কিছু অংশ থাকলেও এর অধিকাংশই তিব্বতে অবস্থিত। তাই এর নাম তিব্বতীয় হিমালয়
  •  টেথিস নামক মহীখাত এ 12 কোটি বছর আগে প্রথম ভূ আলোড়নে হিমালয়ের এই অংশ সৃষ্টি হয় বলে একে টেথিস হিমালয় বলা হয়। 
  • এখানকার গড় উচ্চতা 3000 থেকে 5000 মিটার । জাস্কার , লাদাখ ও কারাকোরাম এই অংশের প্রধান পর্বত। জাস্কার পর্বতে লিওপারগেল(7420) এই অংশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। 

b.হিমাদ্রি হিমালয়:
টেথিস হিমালয়ের দক্ষিণে অবস্থিত সর্বোচ্চ পর্বত শ্রেণী হিমাদ্রি নামে পরিচিত । টেথিস হিমালয় সৃষ্টির সময়ে হিমাদ্রি হিমালয় সৃষ্টি হয়। 
  • রূপান্তরিত শিলা দিয়ে গঠিত এই পর্বতমালার উচ্চতা 6000 মিটার । 
  • পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (8848 মিটার ) ও তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা হিমাদ্রি হিমালয়ে অবস্থিত। 
  • এছাড়াও অপর উল্লেখযোগ্য পর্বত শৃঙ্গ গুলি হল - মাকালু , ধবলগিরি , অন্নপূর্ণা , নন্দাদেবী ইত্যাদি। 
  • এই পর্বত শৃঙ্গ গুলিতে সারা বছর বরফ জমে থাকে । 

c.হিমাচল হিমালয় :
হিমাদ্রি হিমালয়ের দক্ষিণে যে সুউচ্চ পর্বত শ্রেণী পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত তাকে হিমাচল হিমালয় বা মধ্য হিমালয় বলে । প্রায় 2.5 থেকে 3 কটি বছর আগে দ্বিতীয়বার সংঘটিত প্রবল ভূআলোড়়নে হিমালয়ের এই অংশটি সৃষ্টি হয়। 
  • হিমাচল হিমালয়ের গড় উচ্চতা 3000 থেকে 4500 মিটার। 
  • এই পর্বতমালার গুরুত্বপূর্ণ পর্বতশ্রেণী হলো পিরপাঞ্জাল, মুসৌরি , ধওলাধর, নাগটিবা ইত্যাদি। 

d. শিবালিক হিমালয়:
হিমালয় সর্ব দক্ষিণের পর্বতশ্রেণী শিবালিক বা বহিঃ হিমালয় নামে পরিচিত । প্রায় 20 লক্ষ থেকে 2 কোটি বছর আগে তৃতীয় বার প্রবল আলোড়নে শিবালিক হিমালয় সৃষ্টি হয়। 
  • শিবালিক হিমালয়ের উচ্চতা 600 থেকে 1500মিটার। 
  • শিবালিক ও হিমাচল হিমালয়ের মাঝে সংকীর্ণ উপত্যকা কে বলা হয় দুন। যেমন- দেরাদুন , কোটা প্রভৃতি। 
  • শিবালিক হিমালয়ের পাদদেশে ঘন অরণ্যাবৃত স্যাঁতসেঁতে অঞ্চল হল তরাই অঞ্চল। 


ii.উত্তর-পূর্ব ভারতের পার্বত্যভূমি বা পূর্বাঞ্চল:
উত্তর-পূর্বের পার্বত্য ভূমি অঞ্চলটি মূলত পূর্ব হিমালয়ের অংশ। এই অঞ্চলটি উত্তরে চিন, পূর্বে মায়ানমার , দক্ষিণ-পশ্চিমে বাংলাদেশ এবং উত্তর-পশ্চিমে ভুটান অবস্থিত। 
উত্তর-পূর্ব পার্বত্য ভূমি কে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
  •  a.পূর্বাঞ্চল 
  •  b.মেঘালয় মালভূমি 

a.পূর্বাঞ্চল:
উত্তর-পূর্ব ভারতের পার্বত্য অংশে ভারত ও মায়ানমার সীমান্তে (মেঘালয় বাদে) বরাবর উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত সমান্তরাল শৈল শ্রেণি একত্রে পূর্বাঞ্চল নামে পরিচিত। 
  • এই পর্বত শ্রেনীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মিশমি পাহাড়, পাটকই , এছাড়া নাগা পাহাড় , শৃঙ্গ সরামতী , উত্তর কাছাড় পাহাড় , মনিপুর পাহাড় , মিজো পাহাড় ও ত্রিপুরা পাহাড় প্রভৃতি। 

b.মেঘালয় মালভূমি:
মেঘালয় প্রদেশে গারো , খাসি, জয়ন্তিয়া ও মিকিরের পাহাড়ি অঞ্চল নিয়ে গঠিত মেঘালয় মালভূমি প্রকৃতপক্ষে দাক্ষিণাত্য মালভূমির বিভিন্ন অংশ। 
  • এই মালভূমির পশ্চিমে অবস্থিত গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নকরেক
  • এর উত্তরে শিলং পাহাড় , উত্তর-পূর্বের পাহাড় মিকির পাহাড়ি অঞ্চল, মধ্যভাগে খাসি ও জয়ন্তিিয়া পাহাড় অবস্থিত। 




2.উত্তরের সমভূমি অঞ্চল :

অবস্থান:
উত্তরের হিমালয় পর্বত অঞ্চল ও দক্ষিণে উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলের মাঝখানে এই সমভূমি অঞ্চল অবস্থিত । 

আয়তন 
এই সমভূমি পূর্ব পশ্চিমে প্রায় 2500 কিমি দীর্ঘ এবং উত্তর-দক্ষিণে প্রায় 240-320 কিমি প্রশস্ত। সমগ্র সমভূমির মোট আয়তন প্রায় 6,52,000 বর্গ কিমি। 

উৎপত্তি 
ভূতত্ত্ববিদদের মতে হিমালয় পর্বত সৃষ্টির সময় প্রবল চাপে গণ্ডয়ানাল্যান্ডের' উত্তরপ্রান্ত নিচের দিকে বেঁকে গিয়ে উপত্যাকা গঠিত হয় । পরবর্তীকালে এই উপত্যকায় হিমালয় ও দক্ষিণ ভারত থেকে আসা বিভিন্ন নদী যেমন গঙ্গা , যমুনা, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি পলি সঞ্চয়ের ফলে এই সমভূমি সৃষ্টি হয়। 

শ্রেণীবিভাগ
উত্তরের সমভূমি অঞ্চল ভূ-প্রাকৃতিক ও আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চারভাগে বিভক্ত। যথা -
  • i.রাজস্থান সমভূমি বা মরু অঞ্চল 
  • ii.সিন্ধু ও শতদ্রু সমভূমি 
  • iii.গাঙ্গেয় সমভূমি 
  • iv.ব্রহ্মপুত্র সমভূমি

i.রাজস্থান সমভূমি বা মরু অঞ্চল:
মূলত রাজস্থান এবং গুজরাট , পাঞ্জাব ও হরিয়ানার সামান্য অংশ জুড়ে অবস্থিত ভারতের এই মরু অঞ্চলের নাম থর।( মরুস্থলি

  • মরুস্থলির প্রস্তরময় অঞ্চলের নাম হামাদা ।
  • সমান্তরাল বালিয়াড়িগুলি মধ্যবর্তী অবনমিত অংশে বায়ুপ্রবাহের অপসারণজনিত কারণে সৃষ্ট গহবরে লবণাক্ত জলের হ্রদ দেখা যায়। 
  • মরুভূমির চলমান বালিয়াড়ি গুলিকে বলে ধ্রিয়ান । 
  • সমভূমি পূর্ব ভাগের অপেক্ষাকৃত কম বালুময় তৃণভূমি বাগার নামে পরিচিত । এখান দিয়ে লুনি নদী প্রবাহিত হয়েছে। 
  • বাগারের পশ্চিমে প্লাবন সমভূমি কে রহি বলে। 
  • থর মরুভূমি নিচু অংশে এবং জয়সালমীর শহরে কয়েকটি লবণাক্ত জলের হ্রদ দেখা যায় । এখানকার সম্বর হ্রদ হল সমগ্র রাজস্থান মরুভূমি বৃহত্তম হ্রদ। 
  • যেসব স্থানে ভৌম জলস্তর ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে , সেখানে কিছু পরিমাণ খেজুর , পাম জাতীয় গাছ ও তৃন জন্মায়। এইসব স্থানকে মরুদ্দ্যান বলে। 


ii.সিন্ধু ও শতদ্রু সমভূমি:
পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থানের সামান্য অংশ জুড়ে এই সমভূমি অবস্থিত। 
সিন্ধুর পাঁচটি উপনদী শতদ্রু, বিপাশা, বিতস্তা, ইরাবতী ও চন্দ্রভাগা দ্বারা এই সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে বলে একে পাঞ্জাব সমভূমিও বলা হয়। 
  • এখানকার প্লাবনভূমি স্থানীয় ভাষায় ধায়া নামে পরিচিত। 
  • নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নবীন প্লাবনভূমি কে বেট বলে। 
  • দুটি নদীর মধ্যবর্তী অংশে পলি সঞ্চিত হয়ে উচ্চভূমির সৃষ্টি হলে তাকে দোয়াব বলে। 
  • উত্তরের ক্ষয়প্রাপ্ত অংশ খোঁশ বা চোস নামে পরিচিত। 
  • সমভূমির মাঝে মাঝে গড়ে ওঠা ছোট ছোট বালিয়াড়িকে ভুর বলে। 
  • এই সমভূমির গড় উচ্চতা 200 থেকে 300 মিটার। 

iii.গাঙ্গেয় সমভূমি :
দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এই সমভূমি বিস্তৃত। 
এর মোট আয়তন প্রায় 3 লক্ষ 75 হাজার বর্গ কিমি। 

আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সমগ্র সমভূমিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় যথা-
  • উচ্চগাঙ্গেয় সমভূমি 
  • মধ্যগাঙ্গেয় সমভূমি 
  • নিম্নগাঙ্গেয় সমভূমি

উচ্চগাঙ্গেয় সমভূমি:
যমুনা নদীর বাম তীর থেকে এলাহাবাদ পর্যন্ত অংশ উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমি নামে পরিচিত । এর গড় উচ্চতা 100 মিটার এবং এটি প্রায় 630 কিমি অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত । গঙ্গা ও যমুনা নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল গঙ্গা-যমুনা-দোয়াব অঞ্চল নামে পরিচিত। এই অঞ্চলে প্রাচীন পলিসমৃদ্ধ  অঞ্চল ভাঙ্গর এবং  নবীন পলি গঠিত অঞ্চল খাদার নামে পরিচিত । উচ্চ গঙ্গা সমভূমির পর্বতের পাদদেশের  অঞ্চল  ভাবর  এবং দক্ষিণের অংশ তরাই নামে পরিচিত । 

মধ্যগাঙ্গেয় সমভূমি:
পশ্চিমে এলাহাবাদ থেকে পূর্বে রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত প্রায় 650 কিমি বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে মধ্যগাঙ্গেয় সমভূমি বিস্তৃত। এই সমভূমির অন্তর্গত জলাভূমিগুলি উত্তর বিহারে চাউর এবং দক্ষিণ বিহারে তাল নামে পরিচিত। 

নিম্নগাঙ্গেয় সমভূমি:
রাজমহল থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যবর্তী অংশে প্রায় 81000 বর্গ কিমি অঞ্চলজুড়ে নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি বিস্তৃত । এর উচ্চতা 30 মিটারের কম। এই উপ অঞ্চলটি চার ভাগে বিভক্ত ।যথা- 
  • তরাই ও ডুয়ার্স 
  • বরেন্দ্রভূমি
  • রাঢ় সমভূমি
  • বদ্বীপ অঞ্চল


iv.ব্রহ্মপুত্র সমভূমি:
ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদী দ্বারা পলি সঞ্চয়ের ফলে অসম রাজ্যজুড়ে গড়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র সমভূমি। 
  • এটি একটি প্লাবন সমভূমি কারণ এই সমভূমি অত্যন্ত বন্যাপ্রবণ। 
  • এই সমভূমিতে নদীর বুকে অসংখ্য বালুচর বা দ্বীপ দেখা যায়, যার মধ্যে মাজুলী পৃথিবীর বৃহত্তম নদী দ্বীপ। 
  • এই সমভূমির গড় উচ্চতা 30 থেকে 110 মিটার । 



3.উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল :

অবস্থান:
উত্তরে গঙ্গা সমভূমি থেকে দক্ষিনে কন্যাকুমারিকা, পূর্বে পূর্বঘাট পর্বত থেকে পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বতের মধ্যবর্তী অংশ উপদ্বীপীয় মালভূমির অন্তর্গত। ভারতের বৃহত্তম ভূপ্রাকৃতিক বিভাগ হল এই উপদ্বীপীয় মালভূমি। 

ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে এই অঞ্চলটিকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় যথা-
  • i.মধ্য ও পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি
  • ii.দাক্ষিণাত্যের মালভূমি

i.মধ্য ও পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি:
ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে মধ্য ও পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি কে দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায় যথা-
  • মধ্য ভারতের উচ্চভূমি 
  • পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি
মধ্য ভারতের উচ্চভূমি:
উত্তর -পশ্চিমে আরাবল্লী পর্বত থেকে দক্ষিনে নর্মদা উপত্যকায় এবং পূর্বে রেওয়া মালভূমি পর্যন্ত মধ্য ভারতের উচ্চভূমি বিস্তারিত। এই অঞ্চলটি দক্ষিন থেকে উত্তর  ও উত্তরপূর্ব দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে গেছে। 

মধ্য ভারতের উচ্চভূমি অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক অংশগুলি হল -
  • আরাবল্লী পর্বত
  • পূর্ব রাজস্থান উচ্চভূমি 
  • মধ্য ভারতের মালভূমি 
  • বুন্দেলখন্ড মালভূমি
  • মালব মালভূমি
  • রেওয়া মালভূমি
  • বিন্ধ পর্বত 
  • নর্মদা উপত্যাকা

পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি:
শোন নদী অববাহিকার দক্ষিণ-পূর্বে এবং মহাকাল পর্বতের পূর্বে পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি অবস্থিত। 
এই অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক অংশগুলি হল-
  • ছোটনাগপুর মালভূমি 
  • বাঘেলখন্ড মালভূমি 
  • মহানদী অববাহিকা
  • দণ্ডকারণ্য ও গড়জাত পাহাড় 

ii.দাক্ষিণাত্যের মালভূমি:
উত্তরের সাতপুরা মহাকাল পর্বত থেকে দক্ষিনে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত এবং পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা থেকে পূর্বে পূর্বঘাট পর্বতমালা পর্যন্ত বিস্তৃত ত্রিভুজাকার ভূখণ্ড দাক্ষিণাত্য মালভূমি নামে পরিচিত। 

দাক্ষিণাত্য মালভূমিকে  দুটি ভাগে ভাগ করা যায় । যথা- পার্বত্য ভূমি ও মালভূমি। 

পার্বত্য ভূমি উল্লেখযোগ্য পর্বতগুলি হল-
  • পশ্চিমঘাট পর্বত 
  • পূর্বঘাট পর্বত 
  • নীলগিরি পর্বত
  • সাতপুরা পর্বত

মালভূমি অংশের তিনটি ভাগ। সেগুলি হল -
  • মহারাষ্ট্র মালভূমি
  • কর্ণাটক মালভূমির 
  • তেলেঙ্গানা মালভূমি



4.উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল :

অবস্থান
দাক্ষিণাত্য মালভূমির পূর্বে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে আরব সাগরের উপকূল বরাবর বৃস্তিত সংকীর্ণ সমভূমি হল উপকূলীয় সমভূমি এই অঞ্চলের মোট দৈর্ঘ্য 100 কিমি উৎপত্তি ভূ-প্রাকৃতিক তারতম্য অনুসারে উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল কি দুটি ভাগে ভাগ করা যায় যথা-
  • i.পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি 
  • ii.পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি

i.পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি :
বাংলাদেশের পশ্চিম সীমা থেকে  কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত প্রায় 1500 কিমি বিস্তৃত সমভূমিকে উপকূলীয় সমভূমি বলে। 
এই সমভূমি অঞ্চল কে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় । যথা-
  • উত্তর-সরকার উপকূল ( উড়িষ্যা উপকূল ও অন্ধ্র উপকূল) 
  • করমন্ডল উপকূল (তামিলনাড়ু উপকূল) 

ii.পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি:
উত্তরের পাকিস্তানের সীমানাকে দক্ষিণের প্রায় কুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত বিস্তৃত পশ্চিম উপকূলের দৈর্ঘ্য প্রায় ষোল সেমি এবং প্রস্থ প্রায় 15 থেকে 18 কিমি এই উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল কে  ছয় ভাগে ভাগ করা যায় । যথা-
  • কচ্ছ উপদ্বীপ
  • কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ 
  • গুজরাট সমভূমি
  • কঙ্কন উপকূল 
  • কর্ণাটক উপকূল 
  • মালাবার উপকূল



5.দ্বীপপুঞ্জ:

অনেকগুলি ছোট ছোট দ্বীপকে একসঙ্গে দ্বীপপুঞ্জ বলা  হয় । ভারতের দুটি দ্বীপপুঞ্জ রয়েছে । যথা-
  • আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ 
  • লাক্ষা দ্বীপপুঞ্জ 

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ:
  • বঙ্গোপসাগরের 265 টি ছোট বড় দ্বীপ নিয়ে ভারতের বৃহত্তম দ্বীপপুঞ্জ আন্দামান ও নিকোবর গড়ে উঠেছে । 
  • এর মোট আয়তন প্রায় 8249 বর্গ কিমি। 
  •  এই দ্বীপপুঞ্জ উত্তর-দক্ষিণে প্রায় 170 কিমি দীর্ঘ এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় 100 কোটি কিমি প্রশস্ত। 
  • এই দ্বীপপুঞ্জ প্রকৃতপক্ষে আগ্নেয় দ্বীপের সমষ্টি তবে নিকোবর দ্বীপের কিছু অংশ  প্রবাল দ্বারা গঠিত। 
  • স্যাডল পিক( 737 মিটার )এখানকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। 
  • এই দ্বীপপুঞ্জের ব্যারেন একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি এবং নারকোন্ডাম একটি মৃত আগ্নেয়গিরি। 
  • আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ 10 ডিগ্রি চ্যানেল দ্বারা বিচ্ছিন্ন। 
  • গ্রেট নিকোবর এর দক্ষিণতম বিন্দু ইন্দিরা পয়েন্ট ভারতের দক্ষিণতম স্থলবিন্দু। 

লাক্ষা দ্বীপপুঞ্জ:
  • আরব সাগরের বুকে 36 টি ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে লাক্ষাদ্বীপ গড়ে উঠেছে । 
  • এর আয়তন প্রায় 32 বর্গ কিমি। 
  • এই দ্বীপপুঞ্জের সব দ্বীপ ই প্রবাল কীটের দেহাবশেষ জমে সৃষ্ট প্রবাল দ্বীপ। 
  • দ্বীপগুলির কোন স্থানই সমুদ্রতলের 5 মিটারের বেশী উচু নয়। 
  • দ্বীপ গুলির মধ্যে মিনিকয়, আমিনদিভি, লাক্ষাদ্বীপ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
  •  মিনিকয় খানকার সবচেয়ে বড় দ্বীপ। 








No comments:

Post a Comment

মরু অঞ্চলের প্রতিরোধের উপায়

মরু অঞ্চলের প্রতিরোধের উপায়: ১.ভূমিক্ষয় রোধ করা: মরু প্রান্তীয় এলাকায় মাটি ক্ষয় রোধ করতে ঢালু এলাকায় সমোন্নতিরেখা চাষ, বায়ুরোধক দেয়া...