উত্তরের সমভূমি অঞ্চল :
অবস্থান:
উত্তরের হিমালয় পর্বত অঞ্চল ও দক্ষিণে উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলের মাঝখানে এই সমভূমি অঞ্চল অবস্থিত ।
আয়তন
এই সমভূমি পূর্ব পশ্চিমে প্রায় 2500 কিমি দীর্ঘ এবং উত্তর-দক্ষিণে প্রায় 240-320 কিমি প্রশস্ত। সমগ্র সমভূমির মোট আয়তন প্রায় 6,52,000 বর্গ কিমি।
উৎপত্তি
ভূতত্ত্ববিদদের মতে হিমালয় পর্বত সৃষ্টির সময় প্রবল চাপে গণ্ডয়ানাল্যান্ডের' উত্তরপ্রান্ত নিচের দিকে বেঁকে গিয়ে উপত্যাকা গঠিত হয় । পরবর্তীকালে এই উপত্যকায় হিমালয় ও দক্ষিণ ভারত থেকে আসা বিভিন্ন নদী যেমন গঙ্গা , যমুনা, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি পলি সঞ্চয়ের ফলে এই সমভূমি সৃষ্টি হয়।
শ্রেণীবিভাগ
উত্তরের সমভূমি অঞ্চল ভূ-প্রাকৃতিক ও আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চারভাগে বিভক্ত। যথা -
- i.রাজস্থান সমভূমি বা মরু অঞ্চল
- ii.সিন্ধু ও শতদ্রু সমভূমি
- iii.গাঙ্গেয় সমভূমি
- iv.ব্রহ্মপুত্র সমভূমি
i.রাজস্থান সমভূমি বা মরু অঞ্চল:
মূলত রাজস্থান এবং গুজরাট , পাঞ্জাব ও হরিয়ানার সামান্য অংশ জুড়ে অবস্থিত ভারতের এই মরু অঞ্চলের নাম থর।( মরুস্থলি)
- মরুস্থলির প্রস্তরময় অঞ্চলের নাম হামাদা ।
- সমান্তরাল বালিয়াড়িগুলি মধ্যবর্তী অবনমিত অংশে বায়ুপ্রবাহের অপসারণজনিত কারণে সৃষ্ট গহবরে লবণাক্ত জলের হ্রদ দেখা যায়।
- মরুভূমির চলমান বালিয়াড়ি গুলিকে বলে ধ্রিয়ান ।
- সমভূমি পূর্ব ভাগের অপেক্ষাকৃত কম বালুময় তৃণভূমি বাগার নামে পরিচিত । এখান দিয়ে লুনি নদী প্রবাহিত হয়েছে।
- বাগারের পশ্চিমে প্লাবন সমভূমি কে রহি বলে।
- থর মরুভূমি নিচু অংশে এবং জয়সালমীর শহরে কয়েকটি লবণাক্ত জলের হ্রদ দেখা যায় । এখানকার সম্বর হ্রদ হল সমগ্র রাজস্থান মরুভূমি বৃহত্তম হ্রদ।
- যেসব স্থানে ভৌম জলস্তর ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে , সেখানে কিছু পরিমাণ খেজুর , পাম জাতীয় গাছ ও তৃন জন্মায়। এইসব স্থানকে মরুদ্দ্যান বলে।
ii.সিন্ধু ও শতদ্রু সমভূমি:
পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থানের সামান্য অংশ জুড়ে এই সমভূমি অবস্থিত।
সিন্ধুর পাঁচটি উপনদী শতদ্রু, বিপাশা, বিতস্তা, ইরাবতী ও চন্দ্রভাগা দ্বারা এই সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে বলে একে পাঞ্জাব সমভূমিও বলা হয়।
- এখানকার প্লাবনভূমি স্থানীয় ভাষায় ধায়া নামে পরিচিত।
- নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নবীন প্লাবনভূমি কে বেট বলে।
- দুটি নদীর মধ্যবর্তী অংশে পলি সঞ্চিত হয়ে উচ্চভূমির সৃষ্টি হলে তাকে দোয়াব বলে।
- উত্তরের ক্ষয়প্রাপ্ত অংশ খোঁশ বা চোস নামে পরিচিত।
- সমভূমির মাঝে মাঝে গড়ে ওঠা ছোট ছোট বালিয়াড়িকে ভুর বলে।
- এই সমভূমির গড় উচ্চতা 200 থেকে 300 মিটার।
iii.গাঙ্গেয় সমভূমি :
দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এই সমভূমি বিস্তৃত।
এর মোট আয়তন প্রায় 3 লক্ষ 75 হাজার বর্গ কিমি।
আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সমগ্র সমভূমিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় যথা-
- উচ্চগাঙ্গেয় সমভূমি
- মধ্যগাঙ্গেয় সমভূমি
- নিম্নগাঙ্গেয় সমভূমি
উচ্চগাঙ্গেয় সমভূমি:
যমুনা নদীর বাম তীর থেকে এলাহাবাদ পর্যন্ত অংশ উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমি নামে পরিচিত । এর গড় উচ্চতা 100 মিটার এবং এটি প্রায় 630 কিমি অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত । গঙ্গা ও যমুনা নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল গঙ্গা-যমুনা-দোয়াব অঞ্চল নামে পরিচিত। এই অঞ্চলে প্রাচীন পলিসমৃদ্ধ অঞ্চল ভাঙ্গর এবং নবীন পলি গঠিত অঞ্চল খাদার নামে পরিচিত । উচ্চ গঙ্গা সমভূমির পর্বতের পাদদেশের অঞ্চল ভাবর এবং দক্ষিণের অংশ তরাই নামে পরিচিত ।
মধ্যগাঙ্গেয় সমভূমি:
পশ্চিমে এলাহাবাদ থেকে পূর্বে রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত প্রায় 650 কিমি বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে মধ্যগাঙ্গেয় সমভূমি বিস্তৃত। এই সমভূমির অন্তর্গত জলাভূমিগুলি উত্তর বিহারে চাউর এবং দক্ষিণ বিহারে তাল নামে পরিচিত।
নিম্নগাঙ্গেয় সমভূমি:
রাজমহল থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যবর্তী অংশে প্রায় 81000 বর্গ কিমি অঞ্চলজুড়ে নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি বিস্তৃত । এর উচ্চতা 30 মিটারের কম। এই উপ অঞ্চলটি চার ভাগে বিভক্ত ।যথা-
- তরাই ও ডুয়ার্স
- বরেন্দ্রভূমি
- রাঢ় সমভূমি
- বদ্বীপ অঞ্চল
iv.ব্রহ্মপুত্র সমভূমি:
ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদী দ্বারা পলি সঞ্চয়ের ফলে অসম রাজ্যজুড়ে গড়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র সমভূমি।
- এটি একটি প্লাবন সমভূমি কারণ এই সমভূমি অত্যন্ত বন্যাপ্রবণ।
- এই সমভূমিতে নদীর বুকে অসংখ্য বালুচর বা দ্বীপ দেখা যায়, যার মধ্যে মাজুলী পৃথিবীর বৃহত্তম নদী দ্বীপ।
- এই সমভূমির গড় উচ্চতা 30 থেকে 110 মিটার।

https://youtu.be/-PaWb5NZ1kE




No comments:
Post a Comment